নির্বাচন বানচাল হলে রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান ও গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা: সতর্ক করলেন বিএনপির সাবেক নেতা হাসান আল মামুন

জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতি যখন চরম উত্তেজনার দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই ভয়াবহ সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিএনপির সাবেক জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান আল মামুন। তিনি বলেছেন, যদি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বানচাল হয় অথবা অতীতের মতো ভোটারবিহীন ও কারচুপির নির্বাচন হয়, তাহলে বাংলাদেশ আবার রক্তক্ষয়ী ছাত্র গণঅভ্যুত্থান এমনকি গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি হতে পারে। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

PostImage

নির্বাচন বানচাল হলে রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান ও গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা: সতর্ক করলেন বিএনপির সাবেক নেতা হাসান আল মামুন


মুহূর্তেই উত্তাল হয়ে উঠছে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিএনপির সাবেক নেতা হাসান আল মামুন লেখেন,
“অতিউৎসাহী কিছু রাজনৈতিক দল ও নেতাদের কারণে যদি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বানচাল হয় কিংবা ২০১৪, ২০১৮ কিংবা ২০২৪’র মতো ভোটারবিহীন কিংবা কারচুপির নির্বাচন হয়, তাহলে বাংলাদেশ আবার রক্তক্ষয়ী ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের মুখোমুখি হবে—এমনকি গৃহযুদ্ধের মুখোমুখিও হতে পারে।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা দেশকে শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট ও ধ্বংসের পথে ঠেলে দিতে পারে।


প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন,
“নির্বাচন কমিশন সবার আস্থা অর্জন করতে না পারলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। কমিশন প্রভাবিত হলে আমরা আন্দোলনের মাঠে নামতে বাধ্য হবো।”

তিনি জানান, তাদের জোট নির্বাচনের মাঠেই থাকতে চায়, তবে পরিস্থিতি বাধ্য করলে রাজপথে নামতে হবে। নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

তার ভাষায়,
“আমরা নির্বাচন চাই, আন্দোলন চাই না। কিন্তু কমিশন যেন আমাদের আন্দোলনের মাঠে নামতে বাধ্য না করে।”


কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সম্প্রতি একটি ছাত্র সংগঠনের নেতারা নির্বাচন কমিশনের সামনে চাপ সৃষ্টি করে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিক প্রার্থীদের পক্ষে সিদ্ধান্ত আদায়ে ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন,
“এভাবে চাপ দিয়ে রায় আদায় হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার সংস্কারের পক্ষে প্রচার চালালেও নির্বাচন কমিশন শোকজ দিয়ে গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা নির্বাচনের পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।


‘২০০৮ নয়, ১৯৯১ সালের মতো নির্বাচন চাই’

নাহিদ ইসলাম বলেন,
“২০০৮ সালের মতো নয়, নির্বাচন হবে ১৯৯১ সালের মতো। আগের মতো পরিকল্পিত নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।”

তার দাবি, কমিশন যদি একপাক্ষিক আচরণ করে, তাহলে দল ও জোট ভিন্ন পথে যেতে বাধ্য হবে।


তারেক রহমানকে ঘিরে পাল্টা অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরেও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরে বলেছিলেন তার একটি পরিকল্পনা আছে। সেই পরিকল্পনার অংশ কি না—

  • প্রশাসনকে চাপ দেওয়া,

  • মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ,

  • নির্বাচনকে একদিকে হেলে ফেলা,

  • ভোট কেন্দ্র দখল,

  • সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান,

  • ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের সংসদে নেওয়া।

নাহিদ ইসলামের ভাষায়,
“এসব কি তারেক রহমানের পরিকল্পনার অংশ, জনগণের সামনে তা স্পষ্ট করা দরকার।”

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি যদি প্রশাসনকে চাপ দেয় এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কৌশল নেয়, তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। 

নাহিদ ইসলামের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, তারেক রহমানকে ঘিরে অভিযোগ এবং হাসান আল মামুনের গৃহযুদ্ধের সতর্কতা—সব মিলিয়ে ইঙ্গিত দিচ্ছে, নির্বাচন কেবল ভোটের লড়াই নয়, এটি এখন আস্থার লড়াই। 

নির্বাচন শুধু ক্ষমতা বদলের প্রক্রিয়া নয়—এটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার ভিত্তি। সেই ভিত্তি নড়বড়ে হলে রাজনীতি নয়, পুরো দেশ ঝুঁকিতে পড়ে।

বাংলাদেশ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে ভুল সিদ্ধান্ত রাজপথকে ভোটের বিকল্প বানিয়ে দিতে পারে। তাই সবার আগে দরকার—নিরপেক্ষ কমিশন, রাজনৈতিক সংযম এবং জনগণের আস্থা ফেরানো।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর