১৭ বছর পর দেশে ফিরে গণসংবর্ধনায় তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে রাজধানীর পূর্বাচলে গণসংবর্ধনায় বক্তব্য রেখে গণতন্ত্র, শান্তি ও নিরাপদ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অর্থনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধার এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

PostImage

১৭ বছর পর দেশে ফিরে গণসংবর্ধনায় তারেক রহমান


“আই হ্যাভ এ প্ল্যান—সবাই মিলে গড়বো নিরাপদ বাংলাদেশ”

রাজধানীর পূর্বাচলে আয়োজিত গণসংবর্ধনাস্থলে পৌঁছেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী গাড়িবহর। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাল-সবুজ রঙে সাজানো একটি বাসে করে তিনি সরাসরি গণসংবর্ধনাস্থলে যান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরা তারেক রহমানকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই পূর্বাচলে জড়ো হতে থাকেন বিএনপির নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ।

বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে তারেক রহমান মঞ্চে ওঠেন এবং ৩টা ৫৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, “প্রিয় বাংলাদেশ”। এ সময় তাঁর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। মঞ্চে উঠেই তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। তাকে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

‘৭১ ও ২৪—স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই একই’

বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন,
“১৯৭১ সালে এ দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালেও তেমনই সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে।”
তিনি বলেন, আজ দেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়, গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়।

নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের অঙ্গীকার

তিনি বলেন,
“এখন সময় এসেছে সবাই মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে পাহাড়ের মানুষ আছে, সমতলের মানুষ আছে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাই আছে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী, পুরুষ, শিশু—যে কেউ নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে।”

শহীদদের রক্তের ঋণ শোধের আহ্বান

সম্প্রতি নিহত ওসমান হাদির প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন,
“ওসমান হাদি চেয়েছিলেন এ দেশের মানুষ তাদের অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। ১৯৭১ ও ২০২৪ সালে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”

তরুণদের ওপর ভরসা, শান্তির বার্তা

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। গণতান্ত্রিক ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশ গড়ার ওপর জোর দেন তিনি। বক্তব্যে তিনি পরপর তিনবার বলেন,
“আমরা দেশের শান্তি চাই।”

‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের বিখ্যাত বক্তব্যের অনুকরণে তারেক রহমান বলেন,
“আই হ্যাভ এ ড্রিম নয়, আই হ্যাভ এ প্ল্যান।”
তিনি বলেন, দেশ গড়ার জন্য তাঁর সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি তাঁর মা, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান।
তিনি বলেন,
“সবাই মিলে করব কাজ, গড়বো মোদের বাংলাদেশ।”
এ সময় উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

এভারকেয়ার হাসপাতালে নেতাকর্মীদের ঢল

গণসংবর্ধনা শেষে তারেক রহমান রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন—এমন খবরে হাসপাতালের সামনে নেতা-কর্মীদের ভিড় জমে ওঠে। ১৭ বছর পর দেশে ফেরা তারেক রহমানকে একনজর দেখতে বিভিন্ন জেলা ও এলাকা থেকে মানুষ সেখানে আসেন।

হাসপাতালের সামনে দেখা যায়, অনেকের পরনে দলের পতাকার রঙের জার্সি, মাথায় ক্যাপ, কপালে ব্যান্ড। হাতে বিএনপির পতাকা, প্ল্যাকার্ড এবং দলের লোগো সংবলিত ব্যাজ।

নেতা-কর্মীদের প্রতিক্রিয়া

ভাটারা থানা যুবদলের নেতা রতন মিয়া বলেন,
“তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সব বয়সী মানুষ এসেছেন, ভিড় ক্রমেই বাড়ছে।”

বগুড়া থেকে আসা আজিজুল হক কলেজছাত্র সংসদের সাবেক নেতা ওবায়দুল হক বলেন,
“এই উচ্ছ্বাস ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।”

বাড্ডা থেকে আসা নুসরাত জাহান বলেন,
“আমি বিএনপি করি না। তবুও তারেক রহমানকে একবার দেখার জন্য এসেছি। এখানে এসে ঈদের মতো লাগছে।”

মমতাজ বাজার এলাকার বাসিন্দা শরীফুজ্জামান বলেন,
“ছেলে-মেয়েকে সঙ্গে করে এনেছি, ওরাও যেন তারেক রহমানকে দেখতে পারে।”

নিরাপত্তা জোরদার

নেতা-কর্মীদের ভিড়ের কারণে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর