“পদ ছাড়তে প্রস্তুত”—রাষ্ট্রপতির বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন যে তিনি আগামী ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন শেষ হলে তার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগের পরিকল্পনা করছেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া তার প্রথম বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের আচরণ ও দায়িত্ব অবহেলার কারণে তিনি গভীরভাবে অপমানিত ও উপেক্ষিত বোধ করছেন।
“পদ ছাড়তে প্রস্তুত”—রাষ্ট্রপতির বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার মেয়াদের মাঝপথেই পদ ছাড়ার কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ঢাকার সরকারি বাসভবন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমি চলে যেতে আগ্রহী। আমি বেরিয়ে যেতে চাই।” তবে একইসঙ্গে জানান, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে দায়িত্বে থাকবেন।
৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লে এবং সংসদ বিলুপ্ত হয়ে গেলে তিনি দেশের একমাত্র সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্বে থেকে যান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় সাত মাস ধরে ইউনূস তার সঙ্গে দেখা করেননি, রাষ্ট্রপতির প্রেস বিভাগ অপসারণ করা হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরে দেশের সব বিদেশি মিশন থেকে তার প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যা তাকে গভীরভাবে অপমানিত করেছে।
তার ভাষায়,
“এক রাতে হঠাৎ সব দূতাবাস ও হাইকমিশন থেকে আমার ছবি সরিয়ে ফেলা হলো। এতে জনগণের কাছে ভুল বার্তা যায় যে হয়তো প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দেওয়া হবে। আমি অত্যন্ত অপমানিত হয়েছি।”
তিনি জানান, এই ঘটনার বিষয়ে তিনি ইউনূসকে চিঠিও লিখেছেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
“আমার কণ্ঠরোধ করা হয়েছে,” — বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস কর্মকর্তারা রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তৎক্ষণাৎ কোনো সাড়া দেননি।
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সময় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তার সঙ্গে পরামর্শ অব্যাহত রয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেমন পরিবর্তিত হচ্ছে, রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের এ ঘোষণা নতুন রাজনৈতিক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।