Justice for Advocate Fazlur Rahman—আইনজীবীদের সোচ্চার অবস্থান
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ কর্তৃক আদালত অবমাননার মামলায় বিএনপি নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে একাডেমিক ও বার কাউন্সিল সনদসহ হাজির হওয়ার নির্দেশের পর দেশের আইনজীবী সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। মুক্তিযোদ্ধা ও জনপ্রিয় এই আইনজীবীর প্রতি এমন আচরণকে অনেকেই ‘অন্যায্য ও পেশাগত মর্যাদাহানিকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। ফলে বিষয়টি শুধু আইনি পরিমণ্ডলেই নয়, সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
Justice for Advocate Fazlur Rahman—আইনজীবীদের সোচ্চার অবস্থান
আদালত অবমাননা মামলায় ট্রাইব্যুনালের নির্দেশকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া—অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের পাশে আইনজীবী সমাজ
ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ আগামী ৮ ডিসেম্বর বিএনপি নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে তাকে তাঁর একাডেমিক ও বার কাউন্সিল সনদ সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে। আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—সে বিষয়ে রুলও জারি করা হয়েছে।
রবিবার বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে জানান, দুটি বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল বলে প্রসিকিউশন আবেদন করেছে—
১) অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন তিনি এই আদালত মানেন না।
২) তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে “ইন্টারনাল অ্যারেজমেন্টের মাধ্যমে” এই বিচার পরিচালিত হচ্ছে।
আইনজীবী সমাজের তীব্র প্রতিক্রিয়া—“এটি অন্যায্য, অসম্মানজনক”
ট্রাইব্যুনালের নির্দেশের পর থেকেই সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আইনজীবীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন এবং অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানাচ্ছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ লিখেছেন—
“স্যারকে শিক্ষাগত ও আইনজীবী সনদ নিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ অন্যায্য। আমি সকল আইনজীবীকে অনুরোধ করছি—আজ অন্তত স্যারের পাশে দাঁড়ান।”
আরেকজন আইনজীবী লিখেছেন—
“বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান আমার কাছে সবসময় সম্মানিত ব্যক্তি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবচেয়ে বড় শক্তি তিনি।”
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাক হোসেন রাশেদ লিখেছেন—
“I stand with Advocate Fazlur Rahman
#JusticeFor_Advocate_Fazlur_Rahman”
ফজলুর রহমান: জুনিয়রদের ‘মেন্টর’—জনপ্রিয় সিনিয়র আইনজীবী
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট বারে জুনিয়র আইনজীবীদের কাছে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান অন্যতম জনপ্রিয় সিনিয়র হিসেবে বিবেচিত।
অনেকের বক্তব্য—
তিনি জুনিয়রদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি নেন না, কে যা পারে তাই নিয়ে মামলা পরিচালনা করেন।
যেখানে সুপ্রিম কোর্টে অনেক সিনিয়রের উচ্চ ফি না দিলে সিরিয়ালও পাওয়া কঠিন, সেখানে তিনি জুনিয়রদের মামলায় আন্তরিকভাবে সহায়তা করেন।
আইনজীবী সমাজের মতে, “এমন একজন সিনিয়রের প্রতি এ ধরনের আদেশ অসম্মানজনক।”
একজন জুনিয়র আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া।
“আজ যদি একজন সিনিয়রকে সনদ আনতে বলা হয়, কাল থেকে যেকোনো কিছুর অজুহাতে সবার সনদ ডাকবে—এটা অসম্মানজনক নজির।”
“এডভোকেট ফজলুর রহমানের বক্তব্য যৌক্তিক”—আইনজীবীদের মত
অন্য এক আইনজীবী লিখেছেন—
“বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমান স্যারের সব যৌক্তিক বক্তব্য ও আলোচনা আমি সমর্থন করি।”
আইনজীবী সমাজ মনে করছে—
আদালত অবমাননার অভিযোগে এত দ্রুত ও কঠোর নির্দেশ অস্বাভাবিক।
একজন মুক্তিযোদ্ধা, সিনিয়র আইনজীবী ও জনপ্রিয় মেন্টরকে সনদ নিয়ে হাজির হতে বলা পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে।
বিষয়টি দেশের বিচারব্যবস্থায় একটি অস্বস্তিকর বার্তা দিচ্ছে।
ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন—“আইনি প্রক্রিয়া কি স্বচ্ছ?”
বিভিন্ন আইনজীবী মন্তব্য করছেন—
অভিযুক্তের বক্তব্যকে ‘অবমাননা’ হিসেবে বিবেচনার আগে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট কেন তৈরি হয়েছে, তা দেখা উচিত।
যদি কোনো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত—ব্যক্তিগত মর্যাদাহানির মাধ্যমে নয়।
৮ ডিসেম্বরের শুনানির দিকে তাকিয়ে আইন অঙ্গন
এখন দেশের আইন অঙ্গন ৮ ডিসেম্বরের শুনানির দিকে তাকিয়ে আছে। ফজলুর রহমানের প্রতি এখন ব্যাপক সহানুভূতি, সমর্থন ও সংহতি তৈরি হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট বারের অনেক সদস্যই জানিয়েছেন—
“আইনের মান রক্ষা করতে হলে আইনজীবীর মর্যাদা রক্ষা করাই প্রথম শর্ত।”