তারেক রহমান দেশে ফিরলেই ভিভিআইপি প্রটোকল
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরলে তাঁকেও ভিভিআইপি নিরাপত্তা প্রটোকল দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে—দলের শীর্ষ নেতৃত্বে তাঁর অবস্থান, নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন, খালেদা জিয়ার ভিভিআইপি মর্যাদার ধারাবাহিকতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা—এই চার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারেক রহমান দেশে ফিরলেই ভিভিআইপি প্রটোকল
তারেক রহমান দেশে ফিরলে এসএসএফ প্রটোকল পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন—ভিভিআইপি মর্যাদার ধারাবাহিকতায় নতুন আলোচনার জন্ম
অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গুরুতর শারীরিক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (VVIP) হিসেবে ঘোষণা করার পর দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে—দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরলে কি তিনিও এসএসএফ নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আসবেন?
মঙ্গলবার উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকের পর উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও নিরাপত্তার পূর্ণ নিশ্চয়তা দিতে সরকার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিভিআইপি ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
ভিভিআইপি মর্যাদা পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মতোই তাঁর নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (SSF) মোতায়েন করা হয়েছে।
🔸 ভিভিআইপি ক্যাটাগরির নিয়ম অনুযায়ী কী ঘটে?
বাংলাদেশের এসএসএফ অ্যাক্ট–এ ভিভিআইপি তালিকার ক্ষেত্রে সাধারণত নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়:
ব্যক্তি রাষ্ট্রীয়ভাবে "অতি গুরুত্বপূর্ণ" ঘোষণা হলে
নিরাপত্তাজনিত বিশেষ ঝুঁকি থাকলে
রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটে উচ্চ মর্যাদার স্বীকৃতি থাকলে
এই নীতিগুলোর আলোকে অনেকের প্রশ্ন—
যদি তারেক রহমান দেশে ফেরেন এবং রাষ্ট্র তাকে ভিভিআইপি হিসেবে ঘোষিত করে, তবে কি তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসএসএফ-এর সুরক্ষা বলয়ের আওতায় পড়বেন?
🔸 রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: দলীয় সূত্রের ইঙ্গিত
সোমবার রাতে বিএনপির বৈঠকের পর দলের মুখপাত্র সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন—
“তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরবেন।”
এদিকে তারেক রহমান নিজের সাম্প্রতিক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন,
“দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত এককভাবে নিয়ন্ত্রিত নয়, তবে প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে।”
এই বক্তব্য এবং খালেদা জিয়ার জন্য নেয়া সরকারের বিশেষ নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ থেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা—
পরিস্থিতি অনুকূল হলে তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন, এবং ফিরলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ প্রটোকল নিশ্চিত হতে পারে।
🔸 কেন তাকে এসএসএফ দেওয়া হতে পারে—যৌক্তিক বিশ্লেষণ
১. বিএনপি নেতৃত্বে তাঁর অবস্থান:
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান বর্তমানে বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বে আছেন।
২. নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন:
দলের শীর্ষ নেতাদের জন্য অতীতে নিরাপত্তাজনিত বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশে ফেরা মাত্রই তাঁর নিরাপত্তা প্রশ্নটি সামনে আসবে।
৩. খালেদা জিয়ার ভিভিআইপি ঘোষণার ধারাবাহিকতা:
একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ পরিবার ও সক্রিয় রাজনৈতিক উত্তরাধিকারীর ক্ষেত্রে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া ব্যতিক্রম নয়—এমন নজির বিভিন্ন দেশে রয়েছে।
৪. এসএসএফ আইন:
আইনে বলা আছে—
রাষ্ট্র প্রয়োজনে "অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি" হিসেবে যাকে ঘোষণা করবে, এসএসএফ তার নিরাপত্তা দেবে।
অর্থাৎ, এটি সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তনির্ভর।
🔸 রাজনৈতিক মহলে যে ধারণা জোরালো হচ্ছে
সরকার যেভাবে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে,
তাতে তারেক রহমান দেশে ফিরলে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়—এসএসএফসহ—পাওয়ার সম্ভাবনা অস্বাভাবিক নয়।
অনেকে মনে করছেন—
সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যেতে পারে, এবং সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা একটি প্রধান বিষয় হিসেবে সামনে আসবে।