বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ–কানাডা বৈঠক
“আপনারা এমন সময়ে এসেছেন, যখন বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—তরুণদের নেতৃত্বে এক নতুন জাগরণ চলছে। আমরা এখন এমন এক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যা জাতির ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে।”
বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ–কানাডা বৈঠক
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস ও কানাডীয় পার্লামেন্টারি প্রতিনিধিদল। সেনেটর সালমা আতাউল্লাহজানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের এ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে এসে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
বৈঠকে উভয়পক্ষের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
🔹 তরুণদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের রূপান্তর: প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস বলেন,
> “আপনারা এমন সময়ে এসেছেন, যখন বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—তরুণদের নেতৃত্বে এক নতুন জাগরণ চলছে। আমরা এখন এমন এক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যা জাতির ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে।”
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক কাঠামোর দিকে নিয়ে যেতে কাজ করছে।
🔹 রোহিঙ্গা সংকটে কানাডার প্রতি কৃতজ্ঞতা
প্রধান উপদেষ্টা কানাডার অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,
> “রোহিঙ্গা সংকটের আট বছর পেরিয়ে গেছে। এখনো প্রায় ১২ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ বাংলাদেশের কক্সবাজার ও অন্যান্য ক্যাম্পে অবস্থান করছে। হাজার হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে—যাদের কোনো নাগরিকত্ব বা ভবিষ্যৎ পরিষ্কার নয়। এরা এক প্রজন্ম ধরে সীমাহীন অনিশ্চয়তার মধ্যে বেড়ে উঠছে।”
তিনি আরও বলেন, “রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনই একমাত্র টেকসই সমাধান। এর কোনো বিকল্প নেই। অথচ আমরা এখন আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাসের মুখোমুখি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।”
🔹 রোহিঙ্গা ইস্যুতে কানাডার অঙ্গীকার
সেনেটর সালমা আতাউল্লাহজান বলেন,
> “আমি দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলে আসছি। এটি বিশ্বের জন্য এক গুরুতর মানবিক সংকট। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে এই জনগোষ্ঠী শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে পারে।”
তিনি রোহিঙ্গাদের সহায়তায় কানাডার অবিচল মানবিক ভূমিকা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন এবং অধ্যাপক ইউনুসের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
🔹 বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন দিগন্ত
বৈঠকে কানাডীয় সংসদ সদস্য সামির জুবেইরি বলেন,
> “আমরা আমাদের বাণিজ্য সম্পর্ক বৈচিত্র্যপূর্ণ করতে কাজ করছি। বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি এশিয়া সফর করেছেন—এর মূল লক্ষ্য ছিল নতুন বাণিজ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।”
তিনি বাংলাদেশের গার্মেন্টস, কৃষি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
উভয়পক্ষের আলোচনায় উঠে আসে—বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে কানাডার বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা, কৃষি পণ্য ও টেকসই উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা, এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনার বিষয়।
🔹 বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন—
সংসদ সদস্য সালমা জাহিদ (স্কারবোরো সেন্টার–ডন ভ্যালি ইস্ট, লিবারেল)
সামির জুবেইরি, বৈচিত্র্য, অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রীর পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি
মাহমুদা খান, গ্লোবাল সিইও, Human Concern International (HCI)
মাসুম মাহবুব, সিইও, Human Concern USA (HCUSA)
আহমাদ আতিয়া, সিইও, Gestalt Communications
উসামা খান, সিইও, Islamic Relief Canada
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ।
বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ–কানাডা সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। উভয় দেশ বাণিজ্য, মানবিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।