১৩ নভেম্বরকে ঘিরে সহিংসতার অভিযোগে আওয়ামী লীগকে তীব্র সমালোচনা
বাংলাদেশে যখন নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে উত্তেজনা চরমে, তখন সোহেল তাজের এই মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি দলীয় অভ্যন্তরীণ আত্মসমালোচনার ধারা শুরু হয়, তবে এটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সংস্কারের পথ তৈরি করতে পারে।
১৩ নভেম্বরকে ঘিরে সহিংসতার অভিযোগে আওয়ামী লীগকে তীব্র সমালোচনা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ১৩ নভেম্বরকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনায়। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ডাকা কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের পুত্র ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ।
নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন—
“ক্ষমতার কি লোভ— গণহত্যা, গুম/খুন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার বিলুপ্তি, দুর্নীতি-লুটপাট, বিদেশে অর্থ পাচার— সবকিছুর পরও এখন আবার অরাজকতা ও তাণ্ডব সৃষ্টি করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ধ্বংসের চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও লেখেন,
“আমার আশ্চর্য লাগে, এত কিছুর পরও আওয়ামী লীগের একটি অংশ কীভাবে এসব কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে। এর মানে একটাই— তারাই ছিল সুবিধাভোগী। এখন এটার পরিণতি হিসাবে খেসারত দেবে নিরীহ, নিরপরাধ নেতা-কর্মীরা।”
সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার’ দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল। কিন্তু সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি স্থাপনা, নির্বাচন কমিশনের অফিস ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বেশ কিছু এলাকায় আগুন দেওয়া, সড়ক অবরোধ এবং সরকারি সম্পদ নষ্টের ঘটনাও ঘটেছে।
সরকারপক্ষ বলছে, “এটি পরিকল্পিত নাশকতা, যার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে।” অন্যদিকে আওয়ামী লীগপন্থি একাংশ দাবি করছে, “দলের ভেতরে সংস্কারপন্থি ও প্রবাসভিত্তিক গোষ্ঠীগুলো বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সোহেল তাজের এই বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। তারা বলছেন, “দলীয় ইতিহাসে এমন অবস্থান বিরল— যেখানে দলের একজন ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সদস্য প্রকাশ্যে দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক (অব.) ড. মো. হাসানুল করিম বলেন,“সোহেল তাজের মন্তব্য শুধু ক্ষোভ নয়, এটি একটি বার্তা— যে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতির নামে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোহেল তাজের পোস্টটি ভাইরাল হয়ে পড়েছে। অনেকে তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে “রাজনৈতিক হতাশার বহিঃপ্রকাশ” বলে মনে করছেন।
ফেসবুক ও এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ হাজারো মন্তব্যে দেখা গেছে জনগণের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই লিখেছেন, “দেশের জন্য সত্য বলার সাহস দেখিয়েছেন তিনি।” আবার অন্যরা মনে করছেন, “এমন বক্তব্য দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।”