ঋণের সুদ সাড়ে সাত শতাংশ ছাড়াল, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে উঠছে
ত্রিশ বছরের গৃহঋণের সুদ সাত শতাংশ ছাড়িয়েছে, ফলে উচ্চ ঋণখরচে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের বাড়ি কেনার সামর্থ্য আরও কমছে দ্রুত এখন।
ঋণের সুদ সাড়ে সাত শতাংশ ছাড়াল, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে উঠছে
যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির বাজারে সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। ত্রিশ বছরের নির্দিষ্ট সুদের গৃহঋণের গড় হার প্রায় সাড়ে সাত শতাংশে উঠে গেছে। এই হার প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি, ফলে বাড়ি কিনতে আগ্রহী মানুষের মাসিক ঋণ পরিশোধের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
গৃহঋণের সুদের হার বাড়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ঋণের সুদ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ আবার বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সরকারি ঋণের ওপর বেশি সুদ দাবি করছেন। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গৃহঋণের ওপরও পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে বাড়ির দাম কিছু এলাকায় সামান্য কমলেও ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনা সহজ হচ্ছে না। কারণ বাড়ির মোট দামের পাশাপাশি ঋণের সুদও একজন ক্রেতার মাসিক ব্যয়ের বড় অংশ নির্ধারণ করে। ফলে একই দামের বাড়ি কিনলেও কয়েক মাস আগের তুলনায় এখন একজন ক্রেতাকে বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হতে পারে।
সম্প্রতি সিয়াটল অঞ্চলের মতো কিছু বাজারে বাড়ির দাম সামান্য কমেছে। সেখানে আগের বছরের তুলনায় বাড়ির দাম কিছুটা নিচে থাকলেও ভাড়া বেড়েছে এবং গৃহঋণের সুদ সাত শতাংশের ওপরে রয়েছে। ফলে বাড়ির দাম সামান্য কমার সুবিধা উচ্চ ঋণখরচ অনেকটাই কমিয়ে দিচ্ছে।
দেশের অন্যান্য বাজারেও একই ধরনের বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। কিছু বিক্রেতা ক্রেতা আকৃষ্ট করতে বাড়ির চাওয়া দাম কমাচ্ছেন। আবার অনেক বাড়ির মালিক মহামারির সময় নেওয়া কম সুদের পুরোনো ঋণ ধরে রেখেছেন। ফলে তারা বাড়ি বিক্রি করতে আগ্রহী নন। এতে বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে একটি অস্বাভাবিক ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।
বাড়ির ঋণের সুদ বাড়ার আরেকটি প্রভাব হলো প্রথমবারের ক্রেতাদের ওপর চাপ বৃদ্ধি। যারা ভাড়া থেকে নিজস্ব বাড়িতে যেতে চান, তাদের জন্য একদিকে ভাড়া দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ি কেনার জন্য বড় অঙ্কের আগাম অর্থ জমাতে হচ্ছে। উচ্চ সুদের কারণে মাসিক কিস্তি বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার বাড়ি কেনার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে পারে।
ঋণের সুদের হার শুধু বাড়ি কেনার খরচ বাড়ায় না, এটি নির্মাণ খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো যদি বেশি সুদে অর্থ ধার করে, তাহলে নতুন আবাসন প্রকল্পের খরচ বাড়তে পারে। সেই বাড়তি খরচ ভবিষ্যতে বাড়ির দামেও প্রতিফলিত হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের জন্য তাই বর্তমান আবাসন বাজার একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একদিকে কিছু বিক্রেতা দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন এবং ক্রেতারা দর-কষাকষির সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে ঋণের সুদ এত বেশি যে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা সেই কম দামের সুবিধা নেওয়ার মতো আর্থিক অবস্থায় নেই।
বর্তমানে ত্রিশ বছরের গৃহঋণের সুদ ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশের কাছাকাছি উঠেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৬ সালে কিছু সময় সুদ ছয় শতাংশের নিচে নেমেছিল। পরে জ্বালানি বাজার, মূল্যস্ফীতি ও সরকারি ঋণের সুদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গৃহঋণের হার আবার বেড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির বাজারে ক্রেতারা কিছুটা দর-কষাকষির সুযোগ পেলেও উচ্চ ঋণখরচ তাদের সেই সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে দিচ্ছে না। আগামী সময়ে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার কোন দিকে যায়, তার ওপর বাড়ি কেনার সামর্থ্য এবং আবাসন বাজারের গতি অনেকটাই নির্ভর করবে।