দিল্লিতে উত্তাল রাজপথ, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে ছাত্রদের বিক্ষোভ

দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে ছাত্রদের মিছিল, তিন নারী সাংবাদিকের যৌন হয়রানির অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে।

দিল্লিতে উত্তাল রাজপথ, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে ছাত্রদের বিক্ষোভ
দিল্লিতে উত্তাল রাজপথ, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে ছাত্রদের বিক্ষোভ

নয়াদিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। রোববার, ৪ অক্টোবর, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বা এআইএসএসহ বামঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা অশোক রোডের অন্ধ্র ভবন এলাকা থেকে যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল বের করেন। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়।

এই বিক্ষোভের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে তিন নারী সাংবাদিকের যৌন হয়রানির অভিযোগ। অভিযোগকারী সাংবাদিকরা দাবি করেছেন, ৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরের কাছে নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের সময় দিল্লি পুলিশের কয়েকজন সদস্য তাদের সঙ্গে যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করেছেন। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি পৃথক অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়গুলো নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে। তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তারা বারবার সিসিটিভি ফুটেজ ও মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলেও যথেষ্ট তথ্য পাচ্ছেন না। তাদের প্রধান দাবিগুলোর একটি হলো অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নিবন্ধন এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

৪ অক্টোবরের মিছিলে এআইএসএ সভাপতি নেহা বোরাসহ বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা অংশ নেন। পুলিশ যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার পথে ব্যারিকেড বসিয়ে দেয়। বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন ব্যারিকেড পার হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটক করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংক্ষিপ্ত ধস্তাধস্তিও হয়।

এআইএসএ অভিযোগ করেছে, নেহা বোরাকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং গাড়িটিতে কোনো নারী পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন না। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে ৩ অক্টোবরও যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সময় প্রায় ১৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আগের দিন, ২ অক্টোবর, কেন্দ্রীয় দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় আরও কয়েকশ মানুষকে আটক করার কথা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম। এসব বিক্ষোভের মূল দাবির মধ্যে ছিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের তদন্ত।

বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং ভোটার তালিকায় পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ বলছে, নির্দিষ্ট এলাকায় অনুমতি ছাড়া জমায়েত ও বিক্ষোভ ঠেকাতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিউ দিল্লি জেলায় জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল এবং পুলিশ জানিয়েছে, অনুমোদিত প্রতিবাদস্থল ছাড়া পার্লামেন্ট স্ট্রিট এলাকায় জমায়েতের অনুমতি ছিল না।

৫ অক্টোবর সকালে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে রাত কাটানো বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকে প্রায় ১৭ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে তিন নারী সাংবাদিকের একজন অভিযোগকারীও ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগের দ্রুত তদন্ত, এফআইআর এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের পরে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল।

নারী সাংবাদিকদের অভিযোগের বিষয়টি এখন এই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তের ফল এখনো চূড়ান্ত নয়। ফলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

এদিকে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিক্ষোভও অব্যাহত রয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন, অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আগামী দিনগুলোতে এ আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার কর্মসূচির কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।

দিল্লির বর্তমান পরিস্থিতিতে দুটি বিষয় পাশাপাশি সামনে এসেছে—প্রথমত, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন; দ্বিতীয়ত, বিক্ষোভ চলাকালে তিন নারী সাংবাদিকের করা যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত। এখন নজর রয়েছে ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্ত, অভিযোগগুলোর আইনি অগ্রগতি এবং পরবর্তী বিক্ষোভ কর্মসূচির দিকে।

প্রতিবেদক

staf reporter

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…