ভুয়া অভিবাসন কর্মকর্তা সেজে নারীকে পরিবারের সবাইসহ গ্রেপ্তারের ভয়, সাবেক পুলিশ দোষী
নিউইয়র্কের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ভুয়া অভিবাসন পরিচয়ে নারী ও তার পরিবারকে দেশে ফেরত পাঠানোর ভয় দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত।
ভুয়া অভিবাসন কর্মকর্তা সেজে নারীকে পরিবারের সবাইসহ গ্রেপ্তারের ভয়, সাবেক পুলিশ দোষী
নিউইয়র্কে সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন একটি ঘটনা সামনে এসেছে, যা অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে বিশেষ উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এক নারী ও তার পরিবারকে ভয় দেখিয়েছিলেন। পরে তিনি ফেডারেল আদালতে সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় মিথ্যাভাবে ব্যবহারের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আতিউল ইসলাম। তার বয়স ২৯ বছর এবং তিনি নিউইয়র্কের কুইন্সের বাসিন্দা। তিনি আগে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে সার্জেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি ‘জেমস ডব্লিউ অ্যান্ডারসন’ নামটিও ব্যবহার করতেন। সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখে ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে তিনি সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় মিথ্যাভাবে ব্যবহারের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।
ঘটনাটি শুরু হয় ২০২৫ সালের মার্চ মাসে। সরকারি অভিযোগ অনুযায়ী, ২২ মার্চ থেকে ২৯ মার্চের মধ্যে তিনি ওই নারীকে একাধিক বার্তা পাঠান। ব্যক্তিগত বিরোধের প্রেক্ষাপটে পাঠানো এসব বার্তায় তিনি নারী ও তার পরিবারকে নিয়ে হুমকিমূলক কথা বলেন। এমনকি তিনি অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে ডেকে পরিবারটিকে ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেন।
এরপর ঘটে আরও গুরুতর ঘটনা।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ওই হুমকিমূলক বার্তা পাঠানোর প্রায় চার ঘণ্টা পর তিনি একটি অপরিচিত নম্বর থেকে আবার ওই নারীকে বার্তা পাঠান। এবার তিনি নিজেকে নিউইয়র্কের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার কার্যালয়ের পরিচালকের পরিচয়ে উপস্থাপন করেন। তিনি নারীকে জানান, তাকে এবং তার পরিবারকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, ওই নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের একটি অভিবাসন কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়। তারা সেখানে হাজির না হলে আরও আইনি ব্যবস্থা ও অভিযান চালানোর হুমকি দেওয়া হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিবাসন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ব্যাপক উদ্বেগের পরিবেশ রয়েছে। বিশেষ করে কাগজপত্র, কর্মভিসা, স্থায়ী বসবাস এবং নির্বাসন নিয়ে অনেক পরিবার প্রতিনিয়ত সরকারি নিয়ম ও পরিবর্তিত নীতির খবর অনুসরণ করছে। এই পরিস্থিতিতে কেউ যদি নিজেকে সরকারি অভিবাসন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কোনো পরিবারকে ফোন বা বার্তা পাঠায়, তাহলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়তে পারেন।
এই ঘটনায় অভিযোগের বিশেষ দিক হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। ফলে তিনি সরকারি কর্তৃপক্ষের পরিচয় ও ক্ষমতার গুরুত্ব সম্পর্কে জানতেন। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে কাউকে ভয় দেখানো অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় জেলা নিউইয়র্কের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কর্মকর্তা যদি নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেন, তাহলে সেটি শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষতি করে না, পুরো আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
অভিযুক্ত আতিউল ইসলামকে এই মামলার কারণে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ থেকেও পদত্যাগ করতে হয়েছে। আদালতে দোষ স্বীকারের অংশ হিসেবে তাকে পুলিশ বিভাগ থেকে পদত্যাগ করতে হয়। তিনি ২৫ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ বা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে চাকরির জন্য আবেদন করার সুযোগও হারিয়েছেন।
এখন তার সামনে ফেডারেল সাজা রয়েছে। সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, এই অপরাধে তার সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে সর্বোচ্চ শাস্তির সীমা থাকলেই যে আদালত তাকে সেই শাস্তিই দেবেন, এমন নয়। চূড়ান্ত সাজা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
এই ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, যুক্তরাষ্ট্রে কেউ ফোন, বার্তা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে অভিবাসন কর্মকর্তা পরিচয় দিলেই তাকে সত্যিকারের সরকারি কর্মকর্তা ধরে নেওয়া উচিত নয়।