নিউজার্সিতে ফুটপাথে উঠে গাড়ি, আহত ছয় কিশোরের মধ্যে একজন গাড়ির নিচে

নিউজার্সির লিন্ডেনওল্ডে ফুটপাথে হাঁটার সময় গাড়ির ধাক্কায় ছয় কিশোর আহত, একজন গাড়ির নিচে আটকা পড়ে পরে উদ্ধার করা হয়।

নিউজার্সিতে ফুটপাথে উঠে গাড়ি, আহত ছয় কিশোরের মধ্যে একজন গাড়ির নিচে

নিউজার্সিতে ফুটপাথে উঠে গাড়ি, আহত ছয় কিশোরের মধ্যে একজন গাড়ির নিচে


নিউজার্সির লিন্ডেনওল্ডে ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার সময় একটি গাড়ির ধাক্কায় ছয় কিশোর আহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে গিবসবোরো রোডে লিন্ডেনওল্ড হাইস্কুলের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত কিশোরদের বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর গাড়িটি চালাচ্ছিল। একপর্যায়ে গাড়িটি রাস্তা থেকে ফুটপাথে উঠে গিয়ে সেখানে হাঁটতে থাকা শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেয়। এতে ছয় কিশোর আহত হয়। দুর্ঘটনার পর একজন কিশোর গাড়ির নিচে আটকা পড়ে যায়।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারীরা বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে গাড়ির নিচে আটকে থাকা কিশোরকে বের করে আনেন। পরে গুরুতর আহত ওই কিশোরকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য আকাশপথে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্য পাঁচ কিশোরকেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় আহত ছয় কিশোরই চিকিৎসা নিচ্ছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তবে তাদের আঘাতের ধরন ও চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।

দুর্ঘটনার পর গাড়ি চালানো ১৬ বছর বয়সী কিশোরকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার গুরুতর হামলার একটি অভিযোগ, তৃতীয় মাত্রার গুরুতর হামলার ছয়টি অভিযোগ এবং অনুমতি ছাড়া গাড়ি চালানোর একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে ক্যামডেন কাউন্টির কিশোর আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে ইচ্ছাকৃত হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং গাড়ি চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারানো বা বেপরোয়া চালনার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।

ঘটনার পর লিন্ডেনওল্ড হাইস্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ আহত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

স্কুলের আশপাশের এলাকায় পথচারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের সামনে ও ফুটপাথসংলগ্ন এলাকায় গাড়ি চালানোর সময় চালকদের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পুলিশ দুর্ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, গাড়ির গতিবিধি এবং চালকের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্যও তদন্তের অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

একসঙ্গে ছয় শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন অনেকেই। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে স্কুলসংলগ্ন সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি উঠেছে।

তদন্ত শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং চালকের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর