সুপ্রিম কোর্টে শুরু নতুন অধিবেশন, ইমিগ্রেশন ও অস্ত্র মামলায় বড় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের নতুন অধিবেশন শুরু হয়েছে। সামনে ইমিগ্রেশন, অস্ত্র, ভোটাধিকার, জলবায়ু ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে শুরু নতুন অধিবেশন, ইমিগ্রেশন ও অস্ত্র মামলায় বড় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের

সুপ্রিম কোর্টে শুরু নতুন অধিবেশন, ইমিগ্রেশন ও অস্ত্র মামলায় বড় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের


যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের নতুন অধিবেশন সোমবার, ৫ অক্টোবর শুরু হয়েছে। এবারের অধিবেশনে এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে, যেগুলোর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন নীতি, অস্ত্র রাখার অধিকার, ভোটাধিকার, জলবায়ু মামলা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতিকে ঘিরে দুটি মামলায়। একটি মামলায় প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসীদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতার সীমা কতটা। অন্য মামলায় দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কিছু অভিবাসীকে জামিন শুনানি ছাড়াই বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখার নীতির বৈধতা নিয়ে বিচার হবে।

ইমিগ্রেশন নিয়ে এসব মামলা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অভিবাসীদের আটক, বহিষ্কার এবং আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আদালত এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। মামলাগুলোতে দুই পক্ষের আইনি যুক্তি শোনা হবে এবং পরবর্তী সময়ে বিচারপতিরা সিদ্ধান্ত দেবেন।

এবারের অধিবেশনে অস্ত্র রাখার অধিকার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটি আদালত বিবেচনা করবে। কোনো অঙ্গরাজ্যের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনকে সাংবিধানিক বা অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হলে দেশটির অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের একই ধরনের আইনও নতুন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

ভোটাধিকার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে। অ্যারিজোনার ভোটার নিবন্ধন ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কয়েকটি বিধান নিয়ে আদালতের সামনে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার নিয়ম নিয়ে বিচার হবে। অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া এবং যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখা হবে, সেটি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও সুপ্রিম কোর্টে বড় মামলা রয়েছে। তেল ও জ্বালানি কোম্পানি সানকর ও এক্সনমোবিলের বিরুদ্ধে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে করা মামলাগুলো চালিয়ে যাওয়া যাবে কি না, তা আদালত বিবেচনা করছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর কর্মকাণ্ড এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তৈরি ক্ষয়ক্ষতির জন্য কোম্পানিগুলোকে দায়ী করা উচিত। অন্যদিকে কোম্পানিগুলোর অবস্থান হলো, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে স্থানীয় আদালতে এ ধরনের মামলা পরিচালনা করা আইনগতভাবে যথাযথ নয়।

সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত শুধু সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে একই ধরনের জলবায়ু মামলা চালানোর পথও নির্ধারণ করতে পারে। এ কারণে পরিবেশবাদী সংগঠন, স্থানীয় সরকার এবং জ্বালানি শিল্প—সব পক্ষই মামলাটির দিকে নজর রাখছে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে। কলোরাডোর একটি ক্যাথলিক প্রিস্কুল সরকারি অর্থায়িত একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টি আদালতে এসেছে। এখানে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতি এবং সরকারি অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী নিয়মের মধ্যে সংঘাতের প্রশ্ন রয়েছে।

এবারের অধিবেশন শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশও উত্তপ্ত। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে আদালতের নতুন অধিবেশন শুরু হলো। ফলে সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে অভিবাসী অধিকার সংগঠন এবং প্রশাসন—উভয় পক্ষই নজর রাখছে। একই সঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও ভোটাধিকার সংক্রান্ত মামলাগুলোও অঙ্গরাজ্যগুলোর আইন এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের নতুন অধিবেশনে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও মামলা পরবর্তী সময়ে তালিকায় যুক্ত হতে পারে। আদালতের সিদ্ধান্ত সাধারণত কয়েক মাস সময় নেয়। তাই ৫ অক্টোবর শুনানি শুরু হলেও বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ মামলার চূড়ান্ত রায় পরে আসবে। অনেক সিদ্ধান্ত ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রকাশিত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকান ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারের জন্য ইমিগ্রেশন মামলাগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো ব্যক্তির নিজের অভিবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু সংবাদ প্রতিবেদন নয়, প্রয়োজন হলে যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সুপ্রিম কোর্টের নতুন অধিবেশন যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও নীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সূচনা করেছে। ইমিগ্রেশন থেকে অস্ত্র, ভোটাধিকার থেকে জলবায়ু—একাধিক বড় বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত আগামী বছরগুলোতে আমেরিকার আইন ও সরকারি নীতির ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর