ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়া আজারবাইজান শান্তির পথে, তবে চূড়ান্ত চুক্তি এখনো বাকি রয়েছে

ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের উপস্থিতিতে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান শান্তির অঙ্গীকারে সই করেছে, তবে পূর্ণ চুক্তি কার্যকর হতে এখনো কয়েকটি ধাপ বাকি রয়েছে।

ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়া আজারবাইজান শান্তির পথে, তবে চূড়ান্ত চুক্তি এখনো বাকি রয়েছে

ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়া আজারবাইজান শান্তির পথে, তবে চূড়ান্ত চুক্তি এখনো বাকি রয়েছে


দুই দেশের মধ্যে বিরোধের মূল কেন্দ্র ছিল নাগর্নো-কারাবাখ অঞ্চল। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের শেষদিকে, ১৯৮০-এর দশকের শেষভাগ থেকে অঞ্চলটি নিয়ে আর্মেনীয় ও আজারবাইজানি পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। পরবর্তী কয়েক দশকে যুদ্ধ, সীমান্ত সংঘর্ষ, বাস্তুচ্যুতি এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে সম্পর্ক অত্যন্ত তিক্ত হয়ে ওঠে। ২০২০ সালে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ হয় এবং ২০২৩ সালে আজারবাইজান নাগর্নো-কারাবাখের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এর পর অঞ্চলটির বিপুলসংখ্যক জাতিগত আর্মেনীয় বাসিন্দা আর্মেনিয়ায় চলে যায়। 

এই দীর্ঘ সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে ২০২৫ সালে শান্তি আলোচনা নতুন গতি পায়। মার্চে দুই দেশ জানায়, শান্তিচুক্তির মূল পাঠ নিয়ে তাদের আলোচনা শেষ হয়েছে এবং চুক্তিটি স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত। তবে আজারবাইজান আর্মেনিয়ার সংবিধান সংশোধনের বিষয়সহ কয়েকটি শর্ত সামনে রাখে। ফলে চুক্তির চূড়ান্ত স্বাক্ষর ও অনুমোদন প্রক্রিয়া তখনও সম্পন্ন হয়নি। 

এরপর ৮ আগস্ট ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে আলিয়েভ ও পাশিনিয়ানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর তিন নেতা একটি যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষর করেন। এতে দুই দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠা, সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই অগ্রগতি আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। 

ট্রাম্প প্রশাসন ঘটনাটিকে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসানের পথে ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরে। হোয়াইট হাউসও জানায়, দুই দেশের বিরোধ ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলেছে এবং নতুন উদ্যোগ শান্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একটি বড় অংশ সতর্ক করে দেয় যে, একটি যৌথ ঘোষণা বা প্রাথমিকভাবে স্বাক্ষরিত চুক্তি এবং পূর্ণাঙ্গ, অনুমোদিত ও কার্যকর শান্তিচুক্তি এক বিষয় নয়। 

শান্তি উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আজারবাইজান ও তার বিচ্ছিন্ন নাখিচেভান অঞ্চলের মধ্যে আর্মেনিয়ার ভূখণ্ড দিয়ে যোগাযোগের সম্ভাবনা। এই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে বহু বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। ওয়াশিংটনের ঘোষণায় এই অঞ্চলে পরিবহন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা সামনে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে প্রস্তাবিত এই যোগাযোগপথকে আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

তবে শান্তি প্রক্রিয়ার সামনে এখনো কিছু রাজনৈতিক ও আইনি বাধা রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে রয়টার্সকে আজারবাইজানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, দুই দেশ বাস্তবে শান্তির দিকে এগোলেও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে আর্মেনিয়ার সংবিধান পরিবর্তনের দাবি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। অর্থাৎ ২০২৫ সালের ওয়াশিংটন বৈঠক ছিল বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি, কিন্তু সেটিই পুরো শান্তিপ্রক্রিয়ার শেষ ধাপ ছিল না। 

এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘ট্রাম্প ৩৫ বছরের যুদ্ধ শেষ করে দিয়েছেন’ বক্তব্যকে পুরোপুরি নির্ভুল বলা যায় না। ট্রাম্পের মধ্যস্থতা ও রাজনৈতিক ভূমিকা শান্তি প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এ বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষও স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু কয়েক দশকের সংঘাতের পেছনে থাকা সব রাজনৈতিক, ভূখণ্ডগত ও সাংবিধানিক প্রশ্ন একদিনে সমাধান হয়ে যায়নি। শান্তি টেকসই করতে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, সীমান্ত নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর প্রশ্ন এবং চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদনসহ আরও কয়েকটি বিষয় নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। 


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর