আইনজীবীরা বলছেন: “আমরা ন্যায়ের সৈনিক, টাউট নই”

সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের আইনজীবী নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সারাদেশের আইনজীবী সমাজ

PostImage

আইনজীবীরা বলছেন: “আমরা ন্যায়ের সৈনিক, টাউট নই”


বরিশাল-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ সম্প্রতি একটি জনসভায় আইনজীবীদের সম্পর্কে কটূক্তি করে বক্তব্য দেওয়ার পর সারাদেশের আইনজীবী সমাজে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


ঘটনাটি ঘটে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার এক সমাবেশে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাবা সেলিমা রহমান। ঐ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ বলেন —


> “যারা ওকালতি করে তারা টাউট-বাটপার।”




এই মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।



---


⚖️ আইনজীবী সমাজের ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম (বিএনএলএফ) এবং দেশের বিভিন্ন জেলা বার সমিতির পক্ষ থেকে মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

তারা বলেন,


> “তার এই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি দেশের প্রায় আশি হাজারেরও বেশি বিজ্ঞ আইনজীবীকে অপমান করেছেন। এই বক্তব্য শুধুমাত্র আইনজীবী সমাজকেই নয়, বরং গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী প্রতিটি নাগরিককেই আহত করেছে।”




বিএনএলএফ-এর এক বিবৃতিতে আরও বলা হয়,


> “বিজ্ঞ আইনজীবীরা শুধু আদালতে ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করছেন না, তারা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অন্যতম অগ্রণী শক্তি। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে এবং অতীতের প্রতিটি গণআন্দোলনে আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একজন দায়িত্বশীল দলের নেতা হয়ে মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের এমন মন্তব্য গভীরভাবে দুঃখজনক ও দলীয় ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।”


বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,

> “একজন সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে তার এই বক্তব্য শুধু অশালীন ও অশোভন নয়, বরং আইন পেশার মর্যাদাকে হেয় করেছে। আইনজীবীরা দেশের বিচারব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ—তাদের প্রতি এমন অবমাননাকর মন্তব্য ফৌজদারি অপরাধের শামিল।”


বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে,

> “তিনি অবিলম্বে তার মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করবেন—এই আহ্বান জানানো হচ্ছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।


আইনজীবীরা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।


১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অনেক আইনজীবী সরাসরি যুদ্ধ করেছেন ও জীবন উৎসর্গ করেছেন।


জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আইনজীবী সমাজ আবারও প্রমাণ করেছে তারা জনগণের পাশে আছে।

দেশব্যাপী রাজনৈতিক মামলায় নির্যাতিত রাজনীতিবিদদের পক্ষে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিচ্ছেন বহু আইনজীবী।

তাই এই পেশাকে “টাউট-বাটপার” বলে অভিহিত করা শুধু অগ্রহণযোগ্য নয়, বরং এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত একটি ঐতিহাসিক শ্রেণির প্রতি চরম অবমাননা বলে মনে করছে আইনজীবী মহল।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের এই মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং দলীয় ভাবমূর্তিতেও আঘাত হেনেছে। বিএনপির বহু সিনিয়র আইনজীবী নেতা দলটির গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখেন। তাদের প্রতি এমন অপমান দলীয় ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি করেছে।

বিএনপির একাধিক শীর্ষ আইনজীবী নেতার মতে, “ফরহাদের এই বক্তব্য অনভিপ্রেত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। এটি দলের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

আইনজীবী সমাজের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদে এখন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের উপর নিন্দার ঝড় বইছে। বার কাউন্সিলের কঠোর অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ বা দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর