মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় বন্ধ একাধিক দেশের উড্ডয়ন থমকে গেল ইরানের বিমান যোগাযোগ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিধিনিষেধ মানতে গিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মধ্য এশিয়ার আকাশে প্রবেশে বাধা পেয়ে থমকে গেছে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় বন্ধ একাধিক দেশের উড্ডয়ন থমকে গেল ইরানের বিমান যোগাযোগ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় বন্ধ একাধিক দেশের উড্ডয়ন থমকে গেল ইরানের বিমান যোগাযোগ


মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার পারদ বৃদ্ধির সাথে সাথে ইরানের পরিবহন খাতের ওপর চরম অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অবরোধ আরোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন। নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই একের পর এক প্রতিবেশী ও দূরবর্তী দেশগুলো নিজেদের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ইরানি এয়ারলাইন্সের জন্য বন্ধ রাখতে শুরু করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুর্কমেনিস্তানের মতো দেশের কাছ থেকে আসা সাম্প্রতিক ঘোষণা তেহরানের বিমান যোগাযোগের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক আঘাত হিসেবে দাঁড়িয়েছে।  


সংশ্লিষ্ট বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কূটনৈতিক মাধ্যমে আলোচনার চেষ্টা চালানো হলেও আকাশসীমা ব্যবহারের ছাড়পত্র না পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে উড্ডয়ন স্থগিত বা বাতিল করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। তেহরান থেকে দুবাইগামী নির্ধারিত ফ্লাইটগুলোর টিকিট ইতিমধ্যেই ইস্যু করা হয়েছিল, তবে বিমানবন্দর থেকে যাত্রীদের খালি হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হতে হচ্ছে। পছন্দের গন্তব্যে যাতায়াতে স্থবিরতা  


মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসাবাণিজ্য ও পর্যটনের অন্যতম বড় কেন্দ্র দুবাইয়ের সাথে ইরানের যোগাযোগ অত্যন্ত সুনিবিড়। প্রতিদিন অসংখ্য ব্যবসায়ী, প্রবাসী এবং সাধারণ নাগরিক এই রুটে আসা-যাওয়া করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। কেবল আমিরাত নয়, ইতোমধ্যেই বাগদাদ, মাসকাট, কাতার, জর্জিয়া ও আজারবাইজানের মতো একাধিক আঞ্চলিক গন্তব্যে বিমান চলাচল সীমিত বা সম্পূর্ণ স্থগিত হয়ে পড়েছে।  


অন্যদিকে, মধ্য এশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহারে তুর্কমেনিস্তানের অস্বীকৃতির ফলে তাজিকিস্তানসহ সংলগ্ন অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই ধরনের ভূ-রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপের মুখে ইরানের ফ্লাইট নেটওয়ার্ক এখন কয়েকটি মাত্র আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সংকুচিত হয়ে গেছে। বিশেষ করে চীন কিংবা আর্মেনিয়ার মতো দু-একটি বন্ধুভাবাপন্ন রুটে সীমিত পরিসরে পরিষেবা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে।  
নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া  
মার্কিন ট্রেজারি দপ্তরের দাবি, ইরানের সাধারণ পরিবহন খাতের আড়ালে বেসামরিক এয়ারলাইন্সগুলোকে সামরিক সরঞ্জাম, অস্ত্রশস্ত্র, বিশেষজ্ঞ জনবল ও গোপন আর্থিক লেনদেনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিমান ক্রয়, খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ এবং অর্থ স্থানান্তরের একটি চক্র সচল রাখার অভিযোগ তুলে এই নতুন অবরোধ আরোপ করা হয়েছে।  


যেসব বিদেশি বিমানবন্দর বা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইরানি বিমানকে জ্বালানি রিফুয়েলিং, ল্যান্ডিং সুবিধা কিংবা টিকিটিং সহায়তা দেবে, তাদের বিরুদ্ধেও চরম পরোক্ষ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মার্কিন ডলার ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়ে অনেক দেশ বাধ্য হয়ে ইরানি বিমানের সাথে ব্যবসায়িক চুক্তি বা পরিষেবা বাতিল করছে।  
ইরানের পক্ষ থেকে এই বিধিনিষেধের কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত শীর্ষ কর্মকর্তারা হুঁশিয়ার করেছেন যে, যেসব দেশ মার্কিন চাপ মেনে ইরানি বিমানের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করবে, ইরানও প্রয়োজনে সেসব দেশের বিমান চলাচলের ওপর সমান বা পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিমান সেবা ব্যাহত হলে ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, কার্গো পরিবহন, পর্যটন এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর এর গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও পরিবহন বিশ্লেষকরা।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর