যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় কানাডা, জানালেন প্রধানমন্ত্রী কার্নি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি পর্যালোচনার কথা জানালেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় কানাডা, জানালেন প্রধানমন্ত্রী কার্নি

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় কানাডা, জানালেন প্রধানমন্ত্রী কার্নি


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই সম্ভাব্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি পর্যালোচনা করেছে কানাডা। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, তিনি এমন একটি পরিস্থিতির সম্ভাবনাও বিবেচনায় নিয়েছেন, যদিও এটিকে তিনি অত্যন্ত কম সম্ভাবনাময় বা ‘এক্সট্রিম টেইল রিস্ক’ হিসেবে দেখছেন।

সম্প্রতি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্নি বলেন, দায়িত্বশীল সরকারের কাজ হলো খুব কম সম্ভাবনার হলেও বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে—এমন ঝুঁকির বিষয়েও প্রস্তুত থাকা। তিনি বলেন, এটি কোনো স্বাভাবিক বা সম্ভাব্য পরিস্থিতি নয়, তবে এমন ঝুঁকি একেবারে বিবেচনার বাইরে রাখাও দায়িত্বশীলতার পরিচয় হবে না।

কার্নির এই মন্তব্যের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র কানাডায় সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা এমন কোনো আসন্ন হামলার খবর রয়েছে। বরং দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কানাডা সম্ভাব্য চরম পরিস্থিতিগুলোও মূল্যায়ন করছে।

একই সাক্ষাৎকারে কার্নি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কানাডার কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত নির্ভরতা কমানোর বিষয়েও কাজ চলছে। এর মধ্যে ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবস্থার বিকল্প খোঁজার বিষয়টিও রয়েছে। কানাডা নিজেদের যোগাযোগ ও অবকাঠামো ব্যবস্থায় একক কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে চাইছে।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের পুরো বহর কেনার পরিকল্পনা কানাডা পুনর্বিবেচনা করছে বলে তিনি জানিয়েছেন। কানাডার আগে মোট ৮৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা ছিল। এখন সেই পরিকল্পনার পাশাপাশি অন্যান্য বিকল্পও বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে এতসব উত্তেজনার মধ্যেও ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। কার্নি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। অর্থাৎ বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা নিয়ে মতপার্থক্য বাড়লেও দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

কার্নির বক্তব্যে মূলত কানাডার একটি কৌশলগত পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে অটোয়া। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কানাডার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য কার্নির বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর