আওয়ামী ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে তীব্র প্রতিক্রিয়া, ত্যাগী নেতা লাবলুর বঞ্চনায় ক্ষোভে উত্তাল।
বেনজীরের আস্থাভাজন বিতর্কিত ব্যবসায়ী জামান মোল্লা পেলেন বিএনপির মনোনয়ন, মাদারীপুরে বিক্ষোভ–অবরোধ
আওয়ামী ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে তীব্র প্রতিক্রিয়া, ত্যাগী নেতা লাবলুর বঞ্চনায় ক্ষোভে উত্তাল।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ঘোষণার পর থেকেই মাদারীপুর-১ আসনকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সংঘাতমুখর পরিস্থিতি। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন ভাসাবি ফ্যাশন হাউজের কর্ণধার জামান কামাল নুরুউদ্দিন মোল্লা — যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ।
মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চরে ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। বিক্ষুব্ধরা টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করলে ওই সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, “বিএনপি যদি ত্যাগীদের বাদ দিয়ে সুবিধাবাদীদের প্রার্থী করে, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।”
এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাবলু। আন্দোলন–সংগ্রামে রাজপথের পরিচিত মুখ হিসেবে তিনি স্থানীয়ভাবে ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে খ্যাত।
লাবলুর সমর্থকরা অভিযোগ করেন, “জামান মোল্লা রাজপথে কখনও দেখা যায়নি। আওয়ামী সরকারের দোসরদের সান্নিধ্যে থেকে তিনি ব্যবসা করেছেন, আর আজ তাকেই বিএনপির প্রার্থী করা হলো—এটা দলীয় আদর্শের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামান কামাল নুরুউদ্দিন মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার প্রতিষ্ঠান ভাসাবি ফ্যাশন হাউজ শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা ফটোকার্ড ছেপে প্রচার করেছিল—যা সেই সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এছাড়াও, তিনি পাঁচ আগস্টের পর “জুলাই গণহত্যা” ইস্যুতে বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা মহসিন উদ্দিন সোহেল ব্যাপারীর সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, যার ছবি বাংলা ট্রিবিউনসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, জামান মোল্লার মনোনয়ন নিয়ে দলের ভেতরেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অনেকে দাবি করছেন, “তিনি দলের আদর্শের প্রতি নিষ্ঠাবান নন, বরং প্রভাবশালী মহলের তদবিরেই প্রার্থী হয়েছেন।”
সামাজিক মাধ্যমে অনেকে তাকে “সাপ্লাই কোটায় মনোনীত প্রার্থী” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় একটি সূত্র জানায়, জামান মোল্লা দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে দলের সহায়তায় কাজ করেছেন। তাই তাকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।
তবে সমর্থকরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তারা বলছেন, “যে ব্যক্তি আওয়ামী সরকারের সময়ে প্রভাবশালীদের তোষামোদ করে ব্যবসা করেছেন, তাকে বিএনপির প্রার্থী বানানো মানে রাজপথের সৈনিকদের অপমান।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় যদি বিতর্কিত বা সুবিধাবাদী ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়, তবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়বে এবং নির্বাচনী মাঠে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মাদারীপুর-১ আসনে জামান কামাল নুরুউদ্দিন মোল্লাকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত বিএনপির তৃণমূল ও সমর্থকদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। আওয়ামী ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে বিতর্কিত এই প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার পেছনে কার প্রভাব ছিল—সেটি এখন দলের অভ্যন্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।