যুক্তরাষ্ট্রে সমাজতন্ত্র প্রশ্নে ভোটাররা দ্বিধা বিভক্ত হলেও প্রধান চিন্তা জীবনযাত্রার ব্যয়

জাতীয় জরিপে প্রগতিশীল রাজনীতি নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও আমেরিকান ভোটারদের কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম ও অর্থনীতির পরিস্থিতি।

যুক্তরাষ্ট্রে সমাজতন্ত্র প্রশ্নে ভোটাররা দ্বিধা বিভক্ত হলেও প্রধান চিন্তা জীবনযাত্রার ব্যয়
যুক্তরাষ্ট্রে সমাজতন্ত্র প্রশ্নে ভোটাররা দ্বিধা বিভক্ত হলেও প্রধান চিন্তা জীবনযাত্রার ব্যয়

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল ও প্রচারণায় নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অর্ধেকেরও বেশি ভোটার প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক সামাজিক সংগঠন ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা’ বা ডিএসএ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। প্রকাশ পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধন করা ভোটারদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ ডিএসএ-কে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। অন্যদিকে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার সংগঠনটির দর্শনে আস্থা প্রকাশ করেছেন। এই পরিসংখ্যান বিরোধী দল রিপাবলিকানদের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে কাজ করছে। তারা এই তথ্য ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে উগ্র বা চরমপন্থী হিসেবে উপস্থাপনের পথ বেছে নিয়েছে। তবে একই জরিপে স্পষ্ট উঠে এসেছে যে আমজনতার প্রধান উদ্বেগ বা ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাজনৈতিক মতাদর্শের চেয়ে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূলস্ফীতি অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। 


সম্প্রতি প্রকাশিত এই জাতীয় জরিপের ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই হাজার ছাব্বিশ সালের এই নির্বাচনে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটদের লড়াই কেবল কোনো একটি রাজনৈতিক দলের শাসনের মূল্যায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। তারা এটিকে দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শনের মুখোমুখি নির্বাচন হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। রিপাবলিকান কৌশলবিদরা মনে করছেন, বিরোধী শিবির অর্থাৎ ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতর প্রগতিশীল ও সামাজিক গণতান্ত্রিক ভাবধারার প্রার্থীদের যে উত্থান ঘটছে, তা সাধারণ আমেরিকানদের পছন্দ নয়। রিপাবলিকান দলীয় নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকরা প্রকাশ্য জনসভায় বলছেন যে প্রগতিশীলদের এই অবস্থান দেশের সার্বিক ঐতিহ্যিক কাঠামোর বিপরীত। তাদের দাবি, মধ্যপন্থী ভোটাররা এই ধারার রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন এবং এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্বাচনে তারা কাজে লাগাতে পারবেন।  


তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির দিক থেকে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে পরিচালনা করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। ডেমোক্রেট দলীয় প্রার্থীরা জোর দিচ্ছেন সরাসরি অর্থনীতির বাস্তব সংকটের ওপর। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারদর, জ্বালানি খরচ এবং বাসস্থানের মতো মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোকে তারা মূল প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, অধিকাংশ আমেরিকান তাদের কংগ্রেস প্রার্থীদের মুখ থেকে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর রূপরেখা শুনতে চান। সেখানে নিবন্ধিত আমেরিকানদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থনীতিকে এক নম্বর সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন, যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ সরাসরি জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের বিষয়টিকে দায়ী করেছেন।  


উভয় দলের সমর্থকদের মনোভাব ও কৌশল পর্যবেক্ষণ করলে আমেরিকান রাজনীতির অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট চেক করলে দেখা যায়, রিপাবলিকান কৌশলবিদরা যেভাবে কেবল প্রগতিশীল মতাদর্শকে প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছেন, ভোটারদের মানসিকতা পুরোপুরি সে অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে না। আবার একইভাবে ডেমোক্রেটরা অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরে পার পাওয়ার চেষ্টা করলেও, প্রগতিশীল প্রার্থীরা দলের ভেতরে আসার ফলে মূলধারার মধ্যপন্থী ভোটারদের একটি বড় অংশ দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছে। অর্থনৈতিক নীতি বিষয়ে সাধারণ জনগণের সমর্থন দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। প্রায় সমপরিমাণ মানুষ দুই প্রধান দলের নীতিকে সমর্থন জোগাচ্ছেন, যা নির্দেশ করে যে নির্বাচনী মাঠ এখনও সম্পূর্ণ অনিশ্চিত এবং যেকোনো দিকে হেলে পড়তে পারে।  


সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে কোন পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তা কেবল মতাদর্শিক নেতিবাচক প্রচারণার ওপর নির্ভর করছে না। একদিকে যেমন সমাজতন্ত্র ও চরম প্রগতিশীল রাজনীতির প্রতি ভোটারদের বড় একটি অংশের অনীহা রয়েছে, ঠিক তেমনি অন্যদিকে দৈনন্দিন জিনিসপত্রের আকাশচুম্বী দাম ও সাধারণ জীবনযাত্রার টানাপোড়েন ভোটারদের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যে রাজনৈতিক দল সাধারণ ভোটারদের পকেটের টান এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে সঠিকভাবে নিজেদের আয়ত্তে এনে নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে, দিনশেষে তারাই নির্বাচনে জয়ী হতে সক্ষম হবে।


প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…