ইউক্রেনে রুশ হামলায় আটজন নিহত, কৃষ্ণসাগরে দুই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দাবি

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবর্ষণে আটজন নিহত; কৃষ্ণসাগরে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দাবিতে নতুন করে বাড়ছে উদ্বেগ।

ইউক্রেনে রুশ হামলায় আটজন নিহত, কৃষ্ণসাগরে দুই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দাবি
ইউক্রেনে রুশ হামলায় আটজন নিহত, কৃষ্ণসাগরে দুই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দাবি

ইউক্রেনজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে রাশিয়া। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চালানো এসব হামলায় অন্তত আটজন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনীয় আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সময়ে কৃষ্ণসাগরে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দাবি করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। 

ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাতভর হামলায় রাশিয়া ও রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়া থেকে মোট ১৭৪টি ড্রোন এবং দুটি জিরকন জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ইউক্রেন দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ১৪১টি আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস অথবা ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় নিষ্ক্রিয় করেছে। দুটি জিরকন ক্ষেপণাস্ত্রও লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি বলে ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর দাবি।সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর এসেছে খারকিভ অঞ্চল থেকে। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভের তথ্য অনুযায়ী, ১৪টি বসতিতে রুশ হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। বালাকলিয়া ও লিপকুভাতিভকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। 

খেরসন অঞ্চলেও ২৫টি এলাকার ওপর গোলাবর্ষণের কথা জানিয়েছেন গভর্নর ওলেকসান্দর প্রোকুদিন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তিনজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। হামলায় বহুতল আবাসিক ভবন, ব্যক্তিমালিকানাধীন বাড়ি, একটি মোবাইল যোগাযোগ টাওয়ার এবং গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলেও ব্যাপক হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান ওলেকসান্দর গানঝা জানিয়েছেন, চারটি এলাকায় ড্রোন, কামানের গোলা এবং বিমান থেকে নিক্ষেপ করা বোমা ব্যবহার করে ১০টির বেশি হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। ডিনিপ্রোর গুদাম, পাভলোহরাদের একটি বহির্বিভাগীয় চিকিৎসাকেন্দ্র, নিকোপোলের একটি শপিং সেন্টার এবং বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। 

স্থলভাগের পাশাপাশি কৃষ্ণসাগরের পরিস্থিতিও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী ‘গেরান-৪ সিকার’ লয়টারিং ড্রোন ব্যবহার করে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। মস্কোর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ইউক্রেনীয় শুষ্কপণ্যবাহী জাহাজ ওদেসার দিকে যাচ্ছিল এবং অপরটি ওদেসা বন্দরে থাকা একটি ট্যাংকার। রাশিয়া দাবি করেছে, দুটি জাহাজেই সামরিক সরঞ্জাম ছিল। এই দাবির স্বাধীন নিশ্চিতকরণ প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। 

কৃষ্ণসাগরে বেসামরিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আগেই বেড়েছিল। এর মাত্র দুই দিন আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর, ইউক্রেনের অবকাঠামো মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ইউক্রেনের একটি বন্দরের দিকে যাওয়া তানজানিয়ার পতাকাবাহী একটি বেসামরিক জাহাজে রুশ ড্রোন হামলায় জাহাজটির ক্যাপ্টেন নিহত এবং তিনজন নাবিক আহত হন। 

শনিবারের ব্যাপক রুশ বিমান হামলার সময় প্রতিবেশী পোল্যান্ডও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। পোলিশ সামরিক বাহিনী যুদ্ধবিমান আকাশে তোলে এবং স্থলভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রাখে। পরে পোল্যান্ডের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা শনাক্ত হয়নি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো নিয়মিত কার্যক্রমে ফিরে যায়। 

অন্যদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইউক্রেনের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের বাহিনী অগ্রসর হচ্ছে এবং চলতি বছর পাঁচ হাজার ৩০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা দখলে নিয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরে ৬৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলের দাবি করেছে মস্কো। এসব যুদ্ধক্ষেত্রের দাবিও স্বাধীনভাবে পুরোপুরি যাচাই করা কঠিন। 

নতুন হামলা দেখাচ্ছে, যুদ্ধ শুধু সম্মুখসারির স্থলযুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই। ইউক্রেনের শহর ও অবকাঠামোর পাশাপাশি কৃষ্ণসাগরের বাণিজ্যিক নৌপথ এবং প্রতিবেশী ন্যাটো দেশগুলোর সীমান্তবর্তী আকাশসীমাতেও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে ইউক্রেনের সমুদ্রপথে পণ্য ও শস্য পরিবহনের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

প্রতিবেদক

staf reporter

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…