রাজধানীতে রাতভর ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন আতঙ্ক ছড়ালো বিভিন্ন এলাকায়

ক্যাপশন: রাজধানীতে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুনের ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি ও সতর্ক অবস্থান।

রাজধানীতে রাতভর ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন আতঙ্ক ছড়ালো বিভিন্ন এলাকায়

রাজধানীতে রাতভর ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন আতঙ্ক ছড়ালো বিভিন্ন এলাকায়


রাজধানী জুড়ে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ এবং দাঁড়িয়ে থাকা বাসে আগুনের ঘটনায় গভীর রাত পর্যন্ত তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মালিবাগ থেকে শুরু করে যাত্রাবাড়ী, মহাখালী, আগারগাঁও, মগবাজার, বাবুবাজার, রামপুরা ও কাফরুলসহ একাধিক এলাকায় দফায় দফায় এসব ঘটনা ঘটে। হঠাৎ করে এমন ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহে মাঠে নেমেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।  
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে জুমার নামাজের পরপরই। মালিবাগ রেলগেট সংলগ্ন সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের কাছে উড়ালসড়কের ওপর থেকে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এরপর সন্ধ্যার দিকে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বেতার ভবনের সামনে একটি এবং মহাখালী উড়ালসড়ক থেকে নিচে আরও দুটি ককটেল ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। একের পর এক বিস্ফোরণে পথচারী ও দোকানদারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়।  


পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি থমথমে হয়ে ওঠে সন্ধ্যার পর যাত্রাবাড়ী এলাকায়। যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে এবং নিকটস্থ চৌরাস্তার ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছে পরপর একাধিক ককটেল ফাটানো হয়। এতে হানিফ উড়ালসড়কের নিচে থাকা ইবাদুর রহমান নামে এক অটোরিকশাচালক আহত হন। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পুলিশের ধারণা, উড়ালসড়ক ব্যবহার করে চলন্ত অবস্থা থেকে ককটেলগুলো নিচে ছোঁড়া হয়েছিল। 

 
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর অন্যান্য পয়েন্টেও ছড়িয়ে পড়ে একই ধরনের ঘটনা। পুরান ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজের নিচে, মগবাজার মোড় জামে মসজিদের পাশে এবং রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনের বিপরীত পাশের প্রধান সড়কে হাতবোমা বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। এসব জায়গায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের ভীতি তৈরি হয়।  
এরই মধ্যে রাত সোয়া ১০টার দিকে কাফরুল থানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ‘মিরপুর সুপার লিংক’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন লেগে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুগ গতিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় বিশ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বাসটির বেশ কিছু আসন পুড়ে গেলেও কোনো ব্যক্তি হতাহত হননি। তবে বাসটিতে কীভাবে আগুন লাগল বা কারা আগুন লাগাল—সে বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি পুলিশ। 

 
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে তিনটি বাসে আগুনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিশ্চিত তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর কাফরুল থানার সামনে একটি বাসে আগুনের ঘটনা সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে একাধিক বাসে অগ্নিসংযোগের তথ্য যাচাইহীনভাবে গ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত নয়। 

 
এর আগেও চলতি সপ্তাহের শুরুতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। ধারাবাহিক এসব ঘটনার পেছনে কোনো বিশেষ চক্র বা গোষ্ঠী জড়িত কি না, তা বের করতে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিজ্যুয়াল আলামত, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবহার করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে শহর জুড়ে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর