সান দিয়েগোতে এল নিনোর আশঙ্কায় জরুরি অবস্থা, ভারী বৃষ্টি ও বন্যার জন্য প্রস্তুতি জোরদার
এল নিনোর কারণে ভারী বৃষ্টি, বন্যা, কাদাধস ও উপকূলীয় ক্ষতির আশঙ্কায় সান দিয়েগোতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে নগর কর্তৃপক্ষ।
সান দিয়েগোতে এল নিনোর আশঙ্কায় জরুরি অবস্থা, ভারী বৃষ্টি ও বন্যার জন্য প্রস্তুতি জোরদার
সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো মৌসুমকে সামনে রেখে সান দিয়েগো শহরে স্থানীয় জরুরি অবস্থা বহাল রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, সান দিয়েগো সিটি কাউন্সিল ৬-০ ভোটে জরুরি অবস্থা অনুমোদন করে। এর আগে ২ অক্টোবর মেয়র টড গ্লোরিয়া স্থানীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন।
কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, ২০২৬-২৭ সালের এল নিনো মৌসুমে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি, শক্তিশালী ঝড়, উপকূলীয় বন্যা, কাদাধস ও সমুদ্রের বড় ঢেউ দেখা দিতে পারে। এ কারণে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সান দিয়েগোতে আগাম প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
শহর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ১১ মাইলের বেশি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের খাল পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছে। সম্ভাব্য বন্যাপ্রবণ এলাকায় বাসিন্দাদের জন্য বালুর বস্তা সরবরাহের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি বহির্গমন পথ এবং উদ্ধারকারী দলের প্রবেশপথ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে। মিশন বে ও সমুদ্রসৈকতের কিছু অংশে সুরক্ষামূলক বাঁধ তৈরির কাজ চলছে। ঝড়ের পর ভেসে আসা ময়লা ও ধ্বংসাবশেষ দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছে।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা। এতে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠে। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ায় এর ফলে শীতকালীন বৃষ্টিপাত ও ঝড়ের তীব্রতা বাড়ার ঝুঁকি থাকে।
সান দিয়েগো কর্তৃপক্ষ এবার পরিস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি স্থানীয় সম্পদ ও জরুরি সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতার পর শহরটি আগাম প্রস্তুতির ওপর আরও গুরুত্ব দিচ্ছে।
শহর কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে বন্যাপ্রবণ এলাকার পরিবারগুলোকে জরুরি পরিকল্পনা তৈরি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাবার সংরক্ষণ এবং আবহাওয়ার সতর্কতা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সান দিয়েগো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণ বাড়ির বিমা অনেক ক্ষেত্রে বন্যার ক্ষতি কভার করে না। তাই বন্যার ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর নিজেদের বিমা ও সম্পত্তির সুরক্ষা সম্পর্কে আগেই খোঁজ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশি ও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় পরিবারের জন্যও এই সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উপকূলীয় বা নিচু এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে বৃষ্টির পানি দ্রুত বাড়লে কীভাবে নিরাপদ স্থানে যাওয়া যাবে এবং জরুরি অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যাবে, তা আগেই ঠিক করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া ইতোমধ্যে এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতি বাড়িয়েছে। সান দিয়েগোর স্থানীয় জরুরি অবস্থা সেই বৃহত্তর প্রস্তুতি কার্যক্রমের অংশ। কর্মকর্তারা বলছেন, বড় ধরনের ঝড় শুরু হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে এখন থেকেই প্রস্তুত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।