বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা, বাংলাদেশের ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে
মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট ও দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাপে বাংলাদেশের ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা, বাংলাদেশের ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে
বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলেছে, দেশের প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ বর্তমানে এমন অবস্থায় রয়েছে, যেখানে একটি বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা তাদের দারিদ্র্যসীমার নিচে ঠেলে দিতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেশের অর্থনৈতিক দুর্বলতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, দুর্বল বিনিয়োগ এবং আর্থিক খাতের বিভিন্ন সমস্যা অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে।
বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছর ২০২৬-২৭ সালে বাংলাদেশের প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। এই পূর্বাভাস আগের হিসাবের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি সরবরাহের সমস্যা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, বিনিয়োগে ধীরগতি এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা মূল্যস্ফীতি।
অর্থনীতির এই চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। খাদ্য, পরিবহন, বাসাভাড়া ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠী এখন অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোনো বড় ধরনের চাকরি হারানো, আয় কমে যাওয়া, চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি অথবা মূল্যস্ফীতির নতুন ধাক্কা তাদের দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থনীতিতে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। বিনিয়োগ বাড়ানো, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, ব্যাংকিং খাত শক্তিশালী করা এবং সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থার উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে গেলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির গতি কমতে পারে। ফলে তরুণদের জন্য চাকরির বাজারেও চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। আজ অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ২০২৭ সালের জন্য সরকারি পর্যায়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির নীতিও অনুমোদন করেছে।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশীয় সংস্কার কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং নতুন করে দারিদ্র্য সৃষ্টি ঠেকানো এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।