বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে ১০ এয়ারবাস, দীর্ঘপথের জন্য চারটি এ৩৫০ কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০টি এয়ারবাস কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে চারটি দীর্ঘপথের এ৩৫০ এবং ছয়টি মাঝারি দূরত্বের এ৩২১নিও।

বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে ১০ এয়ারবাস, দীর্ঘপথের জন্য চারটি এ৩৫০ কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে ১০ এয়ারবাস, দীর্ঘপথের জন্য চারটি এ৩৫০ কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস ৭ অক্টোবর ২০২৬ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। নতুন চুক্তিতে চারটি এ৩৫০-৯০০ দীর্ঘপথের উড়োজাহাজ এবং ছয়টি এ৩২১নিও মাঝারি দূরত্বের উড়োজাহাজ রয়েছে।

বিমানের জন্য এটি একটি বড় বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর বেশিরভাগই বোয়িংয়ের তৈরি উড়োজাহাজ, পাশাপাশি ড্যাশ-৮ টার্বোপ্রপ বিমানও রয়েছে। নতুন এয়ারবাস যুক্ত হলে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।


নতুন উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে এ৩৫০-৯০০ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের উপযোগী। ফলে ভবিষ্যতে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে বিমানের সরাসরি বা সম্প্রসারিত ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়তে পারে।


এ৩২১নিও উড়োজাহাজগুলো তুলনামূলকভাবে মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের জন্য উপযোগী। এগুলো আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রুটে যাত্রী পরিবহনে কাজে লাগানো যেতে পারে। ফলে বিমানের বহরে একই সঙ্গে দীর্ঘ ও মাঝারি দূরত্বের রুটের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে।

বিমানের এই সিদ্ধান্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বহরে বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাস যুক্ত হওয়া। এতদিন বিমান মূলত বোয়িংনির্ভর বহর পরিচালনা করেছে। নতুন চুক্তির মাধ্যমে বিমান দুটি বড় নির্মাতার উড়োজাহাজ পরিচালনায় যাবে। এতে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও পরিচালন ব্যবস্থাপনায় নতুন ধরনের প্রস্তুতির প্রয়োজন হতে পারে।


এই সিদ্ধান্তের আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার অর্ডারও দিয়েছিল। সেই চুক্তিতে ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ রয়েছে। অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যে বিমানের বহর আধুনিকায়নে দুই বড় নির্মাতার কাছ থেকেই নতুন উড়োজাহাজ নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের বিমান যাত্রী পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাট গত মাসে বলেছিলেন, দেশের মোট বিমান যাত্রীর ২০ শতাংশের কিছু বেশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করে।


নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বিমানের পুরোনো উড়োজাহাজ ধীরে ধীরে প্রতিস্থাপনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দীর্ঘপথের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা ও গন্তব্য বাড়ানো হলে এর সরাসরি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য খবরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা থেকে উত্তর আমেরিকার দীর্ঘপথের রুটে নতুন প্রজন্মের এ৩৫০ উড়োজাহাজ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলে ভবিষ্যতে যাত্রীসেবা, আসনসংখ্যা এবং ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়তে পারে।


তবে নতুন উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি বিমানকে রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ জনবল, পাইলট প্রশিক্ষণ, প্রকৌশল সক্ষমতা এবং সময়মতো ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়েও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বড় বহর পরিচালনা করতে হলে এসব খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এয়ারবাসের এই ঘোষণা তাই শুধু ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার খবর নয়। এটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে সামনে এসেছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর