নির্বাচনের আগে সংঘাতের আশঙ্কা, ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে সতর্ক করলেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম
“গত ১৫ বছরে সুফি ধারার অনুসারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সংযোগ গড়ে উঠেছিল—যেখানে সুফিরা আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেবে, আর আওয়ামী লীগ তাদের সুরক্ষা দেবে। এই পরিমণ্ডলেই ধর্মীয় রাজনীতি আটকে গেছে। কওমিরাও এর বাইরে নয়; তারাও বিভিন্ন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছেন।”
নির্বাচনের আগে সংঘাতের আশঙ্কা, ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে সতর্ক করলেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম
আগামী নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলো সংঘাতের জন্য মুখিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা দৃশ্যমান হতে পারে, এবং যদি এতে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ যুক্ত হয়, তাহলে দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিএমএ ভবনে অনুষ্ঠিত ‘মাজার সংস্কৃতি: সহিংসতা, সংকট ও ভবিষ্যৎ ভাবনা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। সংলাপের আয়োজন করে সুফি দর্শন ও দরবার সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা গবেষণা সংগঠন ‘মাকাম’।
মাহফুজ আলম বলেন, “সবাই সংঘাতের জন্য মুখিয়ে আছে এবং আপনারা অবশ্যই এটা অল্প কয়েক মাসের মধ্যে দেখতে পাবেন। আমি আশঙ্কা করছি, যদি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ এতে যুক্ত হয়, তাহলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলো এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য সংঘাতে যায়নি কেবলমাত্র প্রধান উপদেষ্টার দৃঢ় অবস্থানের কারণে।
তার ভাষায়,
“রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদ হয়তো শেষ হয়েছে, কিন্তু সামাজিক ফ্যাসিবাদ এখনো রয়ে গেছে।”
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশের বিভিন্ন ইসলামি ধারার মধ্যে সংলাপ ও সংযোগের অভাব রাষ্ট্রকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, “দেশের ৯০ থেকে ৯২ শতাংশ মুসলমান বিভিন্ন তরিকা বা মাজহাবে বিভক্ত। অথচ রাজনৈতিক নেতারা তাদের ঐক্যবদ্ধ না করে বরং বিভক্ত করেছেন—কেউ কওমিদের সঙ্গে, কেউ সুন্নিদের সঙ্গে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান,
“গত ১৫ বছরে সুফি ধারার অনুসারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সংযোগ গড়ে উঠেছিল—যেখানে সুফিরা আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেবে, আর আওয়ামী লীগ তাদের সুরক্ষা দেবে। এই পরিমণ্ডলেই ধর্মীয় রাজনীতি আটকে গেছে। কওমিরাও এর বাইরে নয়; তারাও বিভিন্ন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছেন।”
সাম্প্রতিক মাজার হামলার প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম বলেন, “বাংলাদেশে কিছু বিদেশি দূতাবাস মাজার ধ্বংস করতে চায়। একধরনের রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রভাব এখানে কাজ করছে। ধর্মীয় প্রতিক্রিয়ার ভয় না পেয়ে এই সংকটগুলোকে রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক ও নীতিগত দৃষ্টিকোণ থেকে মোকাবিলা করতে হবে—না হলে এই সংকট আরও গভীর হবে।”
তিনি মাজার পরিচালনাকারীদের উদ্দেশে বলেন, “হামলার শিকার মাজারগুলো মামলা করুন। যদি এই সংস্কৃতি টিকে যায়, তাহলে একদিন ইসলামের এক দল আরেক দলের মসজিদ ভাঙবে। আজ সুফিদের বিরুদ্ধে, কাল কওমিদের বিরুদ্ধে হতে পারে। এই চক্র বন্ধ করতে হবে।”
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি শুনেছেন আওয়ামী লীগ সম্প্রতি বিভিন্ন দরবার বা মাজারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। তাদের বোঝানোর চেষ্টা চলছে যে, “অধ্যাপক ইউনূসের সরকার এসে মাজার ভেঙে দিচ্ছে, মসজিদ থেকে বের করে দিচ্ছে।”
তিনি বলেন,
“এটা নতুন কিছু নয়। ৫০ বছর ধরে সরকারের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদ কমিটি ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের কমিটি বদলে যাচ্ছে।”
মাহফুজ আলম বলেন,“একটি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে—এক বছরে কিছুই করা হয়নি। কিন্তু এই ক্ষোভ থেকে পাল্টা আঘাতের চিন্তা করলে ভালো কিছু হবে না। বরং আমাদের উচিত, মাজারগুলোর পুনর্গঠন ও সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়া।”
বক্তব্য শেষে এক সাংবাদিক তথ্য উপদেষ্টাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কবে পদত্যাগ করবেন।এ প্রশ্নের জবাবে মাহফুজ আলম বলেন,“এই প্রশ্ন আলোচনার বিষয়বস্তুর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।”