যুবলীগের উত্থান-পতন: সংগ্রাম, সংকট ও পুনর্জাগরণ

২০০৩ সালে জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মির্জা আজমের নেতৃত্বে পঞ্চম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়, যা যুবলীগকে পুনরায় রাজপথে ফিরিয়ে আনে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় যুবলীগ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও সারাদেশে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখে।

PostImage

যুবলীগের উত্থান-পতন: সংগ্রাম, সংকট ও পুনর্জাগরণ


বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনি—যিনি ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘মুজিব বাহিনী’র প্রধান।

স্বাধীন বাংলাদেশের পুনর্গঠনে যুব সমাজের ভূমিকা নিশ্চিত করতে শেখ মনি প্রতিষ্ঠা করেন যুবলীগ।
গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সংগঠনটি বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন এবং যুবকদের আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন।
প্রথম আক্রমণের শিকার হন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি
এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে থেমে যায় এক সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক অধ্যায়, তবে শেখ মনির রেখে যাওয়া আদর্শ বেঁচে থাকে তার সন্তান ও অনুসারীদের মধ্যে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সামরিক শাসন কায়েম হয়।
১৯৭৮ সালে আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে দ্বিতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়ে সংগঠনটি নতুন করে সংগঠিত হয়।
পরে জিয়া ও এরশাদবিরোধী আন্দোলনে যুবলীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী নির্যাতিত, গ্রেফতার ও শহীদ হন।
১৯৮৭ সালে শহীদ নূর হোসেনের আত্মত্যাগ যুবলীগের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে আছে।

১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের সময় যুবলীগের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। চেয়ারম্যান মোস্তফা মহসীন মন্টু বহিষ্কৃত হন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নেতৃত্বে চতুর্থ কংগ্রেস যুবলীগকে নতুন করে সংগঠিত করে।
তবে পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়

২০০৩ সালে জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মির্জা আজমের নেতৃত্বে পঞ্চম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়, যা যুবলীগকে পুনরায় রাজপথে ফিরিয়ে আনে।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় যুবলীগ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও সারাদেশে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখে।

২০১২ সালে ওমর ফারুক চৌধুরী ও হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে ষষ্ঠ কংগ্রেস হয়।
তবে পরবর্তীতে সংগঠনের কিছু অংশে কমিটি বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠে।
এতে যুবলীগের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়।


২০১৯ সালের সপ্তম কংগ্রেসে শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হাসান খান নিখিল নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
নতুন কমিটি মেধা, মনন ও ত্যাগী নেতাদের নিয়ে সংগঠনকে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আত্মীয়প্রীতির অভিযোগ সংগঠনটির অগ্রযাত্রায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।


বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও আওয়ামী যুবলীগ রাজপথে সক্রিয় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র রক্ষায়, দেশীয়-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে তারা অবিচল ভূমিকা রাখছে।
যুবলীগের মূল বিশ্বাস—
“বঙ্গবন্ধুর আদর্শই আমাদের পথনির্দেশ।”



বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ইতিহাস একদিকে ত্যাগ, আন্দোলন ও আদর্শের; অন্যদিকে বিভ্রান্তি, বিতর্ক ও পুনর্জাগরণের গল্প।
সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে সংগঠনটি এখনো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অগ্রযাত্রার পথে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর