এবার হিন্দুরা দেখাবে, হিন্দু মানে নৌকা নয়, হিন্দু মানে দাঁড়িপাল্লা: জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার

নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিকে উদ্দেশ্য করে মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, “তোমরা ছাত্রদের নতুন দল। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে পাল্লা দিতে গেলে তোমাদের আরও বহুদূর যেতে হবে। জন্ম নিয়েই বাপের সঙ্গে পাল্লা দিও না।”

PostImage

এবার হিন্দুরা দেখাবে, হিন্দু মানে নৌকা নয়, হিন্দু মানে দাঁড়িপাল্লা: জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট নিজেদের পক্ষে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সোমবার সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় এক সমাবেশে বলেন, “হিন্দুরা এবার প্রমাণ করবে, হিন্দু মানে নৌকা নয়, হিন্দু মানে দাঁড়িপাল্লা।”

পরওয়ারের এই মন্তব্যটি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, “অনেকে বলেন হিন্দু মানেই আওয়ামী লীগ, হিন্দু মানেই নৌকা। আমি বলি না। এবার হিন্দুরা দেখাবে, তারা সচেতন নাগরিক। তারা বুঝবে কে সত্যিকার অর্থে তাদের নিরাপত্তা দিতে পারে, কে পারে না।”

জামায়াত নেতা দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, “তালা-কলারোয়ার হিন্দুরা, আপনারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে অতীতের সব শাসনের চেয়ে সবচেয়ে নিরাপদে থাকবেন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, কারও ধর্মীয় অধিকার বা সম্পদের উপর আঘাত আসতে দেব না।”

এর আগে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র এক পোস্টের সমালোচনা করে বলেন, “নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী নাকি সংস্কার চায় না, সংবিধান সংলাপে ভূমিকা রাখেনি। অথচ ঐকমত্য কমিশনে লিখিতভাবে ছয়টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে আমরা প্রথম পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিয়েছি। তারা চায় আমরা যেন তাদের সমালোচনা করি, কিন্তু কেউ তো তাদের নামই নিচ্ছে না।”

নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিকে উদ্দেশ্য করে মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, “তোমরা ছাত্রদের নতুন দল। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে পাল্লা দিতে গেলে তোমাদের আরও বহুদূর যেতে হবে। জন্ম নিয়েই বাপের সঙ্গে পাল্লা দিও না।”

তার এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকে এটিকে জামায়াতের ‘নতুন কৌশলগত বার্তা’ হিসেবে দেখছেন—বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবে।

জামায়াত নেতাদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে জনমত তৈরি করতে তারা দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। পরওয়ার বলেন, “আমরা ইসলামি আদর্শে বিশ্বাসী, কিন্তু সেই আদর্শের মধ্যে সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও আছে। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবাই এ দেশের নাগরিক, সবাই নিরাপদ থাকবে ইনশাআল্লাহ।”

সমাবেশে স্থানীয় জামায়াত ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শেষে পরওয়ার আহ্বান জানান, “রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতাই বড় কথা। জনগণ এবার বুঝে ভোট দেবে, কারণ পরিবর্তন দরজায় কড়া নাড়ছে।”

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর