“আন্দোলন নয়, এখন বাস্তবায়নের সময়” — জুলাই প্রতিনিধি সোহাগ মাহমুদ
ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে উত্থাপিত হলো আহতদের দাবি ও বাস্তব চিত্র
“আন্দোলন নয়, এখন বাস্তবায়নের সময়” — জুলাই প্রতিনিধি সোহাগ মাহমুদ
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী "জুলাই যোদ্ধাদের" সঙ্গে আজ জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদের এলডি হলে। এতে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে জুলাই যোদ্ধাদের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেন— মো. সোহাগ মাহমুদ, কামরুল হাসান, মো. আল-আমিন, মুস্তাঈন বিল্লাহ হাবিবী, হাসিবুল হাসান জিসান, মারুফা মায়া, আহাদুল ইসলাম, মাজেদুল হক শান্ত, মো. সাগর উদ্দিন, মো. দুলাল খান, মো. নাহিদুজ্জামান, ইমরান খান এবং নুসরাত জাহান।
বৈঠকে জুলাই যোদ্ধারা কমিশনকে অবহিত করেন যে, স্বাস্থ্য কার্ড থাকা সত্ত্বেও কোরবানি ঈদের পর থেকে অনেকেই দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা এ অবস্থাকে “দুঃখজনক ও অমানবিক” বলে উল্লেখ করেন এবং কমিশনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পক্ষ থেকে একটি লিখিত নির্দেশনা দেশের সব হাসপাতালে পাঠানোর দাবি জানান, যাতে আহত যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত হয়।
এছাড়া জুলাই পরিবারের সদস্যদের আইনি সুরক্ষা, নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) প্রদান এবং মাসিক ভাতা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালুর প্রস্তাব দেন তারা।
১৭ অক্টোবরের ঘটনার ব্যাখ্যা ও ক্ষমা প্রার্থনা
জুলাই যোদ্ধারা ১৭ অক্টোবরের ঘটনাকে “সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত” বলে মন্তব্য করেন। তারা জানান, ওইদিন জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তারা কোনো সহিংসতা করতে যাননি; বরং আহতদের ন্যায্য দাবি উপস্থাপন করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কিছু বহিরাগত ব্যক্তি সেখানে অনুপ্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
তারা ঘটনাটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং সেদিন দায়ের করা চারটি মামলা প্রত্যাহারে কমিশনের সহায়তা কামনা করেন।
কমিশনের প্রতিশ্রুতি ও নতুন সংশোধনী
ঐক্যমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই যোদ্ধাদের উত্থাপিত সব দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করা হয়।
এর আগে, জুলাই সনদের ৫ নম্বর দফার সংশোধনী আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনে উপস্থাপন করা হয়, যেখানে আহত যোদ্ধাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার যুক্ত করা হয়েছে।
৫ নম্বর দফার সংশোধনীতে বলা হয়েছে:গ ণঅভ্যুত্থানপূর্ব বাংলাদেশে ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান, আহত বীর যোদ্ধাদের মাসিক ভাতা, সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন ব্যবস্থা ও আইনগত দায়মুক্তি নিশ্চিত করা হবে।”
এই সংশোধনী তৈরিতে অধ্যাপক আলী রিয়াজ, সালাউদ্দিন আহমেদ এবং আহত প্রতিনিধিদল ইমরান খান ও সোহাগ মাহমুদ-এর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠক শেষে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোহাগ মাহমুদ জানান,“আজকের বৈঠক ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়গুলো কমিশন গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, সরকার এখন প্রতিশ্রুত সব দাবিগুলো বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।”
তিনি আরও আহ্বান জানান,
> “আমার আহত ভাইদের অনুরোধ করছি— আর কোনো আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদের জড়াবেন না। জুলাই সনদের পর আমাদের দাবিগুলো সরকার গ্রহণ করেছে, এখন আমাদের লক্ষ্য বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।”
বৈঠকটি বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আহত জুলাই যোদ্ধাদের দাবি বাস্তবায়নে ঐক্যমত্য কমিশনের ভূমিকা আগামী দিনে জাতীয় পুনর্মিলন প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
---