জনগণের পাশে থাকতে চাই, উন্নয়ন-নিরাপত্তা ও স্বচ্ছ প্রশাসনই আমার অঙ্গীকার” — ঝিকরগাছা-চৌগাছা বিএনপি নেতা ইমরান সামাদ নিপুনের বিশেষ সাক্ষাৎকার
“আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমরা যারা তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিক, তাদের দায়িত্ব হচ্ছে দলের ভাবমূর্তি পুনর্গঠন করা, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা।”
জনগণের পাশে থাকতে চাই, উন্নয়ন-নিরাপত্তা ও স্বচ্ছ প্রশাসনই আমার অঙ্গীকার” — ঝিকরগাছা-চৌগাছা বিএনপি নেতা ইমরান সামাদ নিপুনের বিশেষ সাক্ষাৎকার
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ইতিমধ্যে আলোচনায় এসেছেন ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান সামাদ নিপুন। তরুণ, শিক্ষিত ও সাংগঠনিকভাবে বলিষ্ঠ এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়। আন্দোলন-সংগ্রামের দিনগুলোতে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম সংগঠক, বর্তমানে জনগণের উন্নয়ন ও এলাকার সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করছেন নিরলসভাবে।
ইমরান সামাদ নিপুন বলেন,“আমি রাজনীতিকে কখনো ব্যক্তিগত ক্ষমতা বা প্রভাব বিস্তারের জায়গা হিসেবে দেখি না। রাজনীতি আমার কাছে মানুষের পাশে থাকা, তাদের সমস্যার সমাধান করা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার।”
তিনি জানান, বিএনপির আদর্শ ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দর্শনই তার রাজনীতির মূল অনুপ্রেরণা। “জিয়া সাহেব বলেছিলেন, ‘রাজনীতি মানে সেবা।’ আমি সেই নীতিতেই কাজ করছি। আমার লক্ষ্য হচ্ছে—ঝিকরগাছা-চৌগাছাকে একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা।”
জনগণের মূল সমস্যা: জলাবদ্ধতা, বেকারত্ব ও কৃষি সংকট
নিপুন বলেন,“আমাদের অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজের দুর্বলতা। বর্ষার সময় গ্রামের পর গ্রাম পানিতে ডুবে থাকে। কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, রাস্তা-ঘাট ভেঙে যায়, ব্যবসা-বাণিজ্য থমকে যায়। আমি নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ হবে নদী ও খালের পুনঃখনন, সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।
তিনি আরও বলেন, “এলাকায় বেকার তরুণের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আমি চাই প্রতিটি ইউনিয়নে ‘যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ গড়ে তোলা হোক—যেখানে তরুণরা প্রযুক্তি, কৃষি, মৎস্য, হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাবে।”
ইমরান সামাদ নিপুন মনে করেন, শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া কোনো সমাজ টিকে থাকতে পারে না। “প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব ও লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। মেয়েদের জন্য নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা ও বৃত্তি প্রকল্প চালু করবো, যাতে তারা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।”
তিনি জানান, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ক্ষুদ্রঋণ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়া হবে, যাতে তারা ঘরে বসেই আয় করতে পারেন।
নিরাপত্তা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান
মাদক সমস্যাকে তিনি ‘স্থানীয় উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শত্রু’ বলে আখ্যা দেন। “আমি মাদকবিরোধী আন্দোলনকে রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে নিয়েছি। প্রশাসন, অভিভাবক ও তরুণ সমাজের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে চাই। প্রতিটি ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী কমিটি ও খেলাধুলা-কেন্দ্রিক সামাজিক কর্মসূচি চালু করা হবে।”
ইমরান সামাদ নিপুন বলেন, “আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমরা যারা তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিক, তাদের দায়িত্ব হচ্ছে দলের ভাবমূর্তি পুনর্গঠন করা, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা।”
তিনি বিশ্বাস করেন, নতুন প্রজন্মের হাতে আগামী বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। “আমরা পরিবর্তনের রাজনীতি করতে চাই, প্রতিশোধের নয়।”
উন্নয়ন পরিকল্পনার সারসংক্ষেপ
1. নদী ও খালের পুনঃখনন ও জলাবদ্ধতা নিরসন
2. কৃষিতে ভর্তুকি, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বাজার নিশ্চয়তা
3. বেকার তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প
4. প্রতিটি ইউনিয়নে ইকোপার্ক ও ক্রীড়া অবকাঠামো
5. নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
6. সুষ্ঠু প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন
সাক্ষাৎকারের শেষে ইমরান সামাদ নিপুন বলেন, “আমি যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হই, তবে আমার প্রথম দায়িত্ব হবে এই এলাকার মানুষকে বিশ্বাসের জায়গায় ফিরিয়ে আনা। রাজনীতি মানে প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কাজ। আমি চাই—ঝিকরগাছা ও চৌগাছার প্রতিটি পরিবার যেন মনে করে, তাদের একজন প্রতিনিধি সত্যিই তাদের জন্য কাজ করছে।”