যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর অভিযান জোরদার, অভিবাসী গ্রেপ্তার নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যে আইসিইর অভিযান বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ।

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর অভিযান জোরদার, অভিবাসী গ্রেপ্তার নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর অভিযান জোরদার, অভিবাসী গ্রেপ্তার নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু


যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর কার্যক্রম নিয়ে আবারও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় গ্রেপ্তার ও আটক কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।


অভিবাসনবিষয়ক সাম্প্রতিক তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, আইসিই হেফাজতে থাকা মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। ট্রান্সঅ্যাকশনাল রেকর্ডস অ্যাকসেস ক্লিয়ারিংহাউসের তথ্য অনুযায়ী, ১১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত আইসিইর হেফাজতে ৬৫ হাজার ৭৬৫ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ৭০.৬ শতাংশের কোনো অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড ছিল না বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। 


এই পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য হলো, আইসিইর প্রধান লক্ষ্য এমন অভিবাসীদের আটক করা যারা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন এবং যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ বা দণ্ড রয়েছে। প্রশাসন বলছে, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার হবে। কিন্তু অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, অভিযান পরিচালনার সময় এমন অনেক মানুষও আটক হচ্ছেন যাদের কোনো গুরুতর অপরাধের রেকর্ড নেই। এতে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বা দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যেও ভয় তৈরি হচ্ছে।


আইসিইর আটক কার্যক্রম শুধু সীমান্তবর্তী এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগোসহ বড় বড় শহরেও অভিবাসন অভিযান নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিশেষ করে বড় শহরের অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে পুলিশ ও আইসিইর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


 অনেক স্থানীয় প্রশাসন মনে করে, ফেডারেল অভিবাসন সংস্থার অভিযান স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালনা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, স্থানীয় সরকারের সহযোগিতা না থাকলেও ফেডারেল আইন অনুযায়ী আইসিই অভিযান পরিচালনা করতে পারে।


এই নীতির কারণে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্কের প্রভাব পড়ছে বলে বিভিন্ন সংগঠন দাবি করছে। কিছু মানুষ কর্মস্থলে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন, সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়েছেন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক হচ্ছেন।


অভিবাসনবিষয়ক আইনজীবীরা অভিবাসীদের নিজেদের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে কোনো সরকারি কর্মকর্তা দরজায় এলে কী ধরনের অনুমতি প্রয়োজন এবং আদালতের আদেশ ছাড়া কোন পরিস্থিতিতে প্রবেশ করা যায়—এসব বিষয় নিয়ে আইনজীবীরা সচেতনতা বাড়াচ্ছেন।


আইসিইর বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে। রয়টার্সের একটি তদন্তে এর আগে দেখা গেছে, আদালত হাজার হাজার ক্ষেত্রে আইসিইর আটককে বেআইনি বলে রায় দিয়েছে। এতে আটক প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন উঠেছে।


তবে প্রশাসনের অবস্থান হলো, আদালতের যেসব সিদ্ধান্তে নির্দিষ্ট কর্মকর্তার ভুল বা বেআইনি আটক প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলো সংশোধন করা হবে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে।


এই নীতির রাজনৈতিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করছে, ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রিপাবলিকানরা পাল্টা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় অভিবাসন ইস্যু আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


 সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসন রিপাবলিকান ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ মানবিক অভিবাসন নীতির ওপর জোর দিচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যেও আইসিইর অভিযান নিয়ে আগ্রহ ও উদ্বেগ রয়েছে।


 বিশেষ করে যাদের বৈধ কাগজপত্রের সমস্যা রয়েছে বা অভিবাসন মামলা চলমান, তাদের জন্য পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে আইনি পরামর্শ প্রয়োজন হলে অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।


আইসিইর অভিযান আগামী মাসগুলোতে আরও বাড়বে কি না, তা ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেট, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তবে বর্তমানে অভিবাসন আইন প্রয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে রয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর