ট্রাম্প প্রশাসনের বননীতি নিয়ে পরিবেশবাদীদের তীব্র আপত্তি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪৫ মিলিয়ন একর বনভূমিতে নতুন সড়ক ও কাঠ আহরণের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনায় পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ।
ট্রাম্প প্রশাসনের বননীতি নিয়ে পরিবেশবাদীদের তীব্র আপত্তি
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বনভূমির ওপর দীর্ঘদিনের সুরক্ষা নীতি বাতিলের পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসন ২০০১ সালের রোডলেস এরিয়া কনজারভেশন রুল বাতিল করতে চায়। এই নিয়ম প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ একর জাতীয় বনভূমিকে নতুন রাস্তা নির্মাণ, কাঠ আহরণ ও অন্যান্য উন্নয়ন থেকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, পুরোনো নিয়মটি বন ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় কর্মকর্তাদের জন্য অপ্রয়োজনীয় বাধা তৈরি করেছে। বিশেষ করে দাবানল নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণ এবং বন ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন নীতির প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্সের নেতৃত্বাধীন কৃষি বিভাগ বলছে, বনভূমিতে সক্রিয় ব্যবস্থাপনা বাড়ানো হলে দাবানলের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
তবে পরিবেশবাদীরা সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, সুরক্ষা নীতি বাতিল হলে জাতীয় বনভূমির বিশাল অংশ বাণিজ্যিক কাঠ আহরণ, খনিজ উত্তোলন ও নতুন সড়ক নির্মাণের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে।
সিয়েরা ক্লাবসহ পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, বনভূমিতে নতুন রাস্তা নির্মাণ অনেক ক্ষেত্রে উল্টো দাবানলের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বসবাসকারী বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বনভূমিতে প্রায় ৪০০টি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী রয়েছে, যাদের আবাসস্থল এই পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বিষয়ে জনগণের মতামত জানানোর সময়সীমা ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর প্রশাসন নিয়ম পরিবর্তনের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে আলাস্কা থেকে ওরেগন এবং নর্থ ক্যারোলিনা পর্যন্ত বিভিন্ন জাতীয় বনভূমিতে উন্নয়ন ও কাঠ আহরণের সুযোগ বাড়তে পারে।
তাই বিষয়টি এখন পরিবেশ সংরক্ষণ বনাম বন ব্যবস্থাপনা—এই দুই অবস্থানের মধ্যে বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে।