মেক্সিকোর সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়, পাসপোর্টের ছবিতে হিজাব পরার অধিকার নিশ্চিত
মেক্সিকোর সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়, পাসপোর্টের ছবিতে হিজাব পরার অধিকার পেলেন মুসলিম নারীরা, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত হলো।
মেক্সিকোর সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়, পাসপোর্টের ছবিতে হিজাব পরার অধিকার নিশ্চিত
মেক্সিকোর সুপ্রিম কোর্ট মুসলিম নারীদের পাসপোর্টের ছবিতে হিজাব পরার অধিকার নিশ্চিত করেছে। আদালত বলেছে, পরিচয় শনাক্ত করতে বাধা না দিলে ধর্মীয় পোশাক পরার কারণে পাসপোর্টের ছবি তোলার সময় হিজাব খুলতে বাধ্য করা যাবে না।
মামলাটির সূত্রপাত এক মুসলিম মেক্সিকান নারীকে ঘিরে। পাসপোর্টের জন্য ছবি তোলার সময় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাঁকে হিজাব খুলতে বলেছিলেন। তিনি ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তা করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তাঁর পাসপোর্ট দেওয়ার প্রক্রিয়া আটকে যায় এবং তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
মেক্সিকোর সর্বোচ্চ আদালত পরে বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখতে পায়, হিজাব মাথা ঢেকে রাখলেও মুখ খোলা থাকায় ব্যক্তিকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তা বাধা সৃষ্টি করে না। ফলে নিরাপত্তা ও পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার সমন্বয় করা সম্ভব বলে আদালত মত দেয়।
আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাসপোর্টের ছবিতে সাধারণ নিয়ম হিসেবে মাথা খোলা রাখার বিধান থাকলেও ধর্মীয় কারণে কেউ হিজাব বা এমন পোশাক পরেন, যা তাঁর পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টি করে না, তাহলে ব্যতিক্রম হিসেবে সেই পোশাক পরেই ছবি তোলার অনুমতি দিতে হবে।
আদালত আরও স্পষ্ট করেছে, বিষয়টি শুধু হিজাব পরার অনুমতি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা, বিবেকের স্বাধীনতা এবং বৈষম্য থেকে সুরক্ষার অধিকার জড়িত। মেক্সিকোর সংবিধান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতির আলোকে আদালত এই অধিকারকে সুরক্ষা দিয়েছে।
মামলাটির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২৬ সালের ৩ জুলাই আদালতের সংশ্লিষ্ট বিচারিক নীতি প্রকাশিত হয়। সেখানে পাসপোর্টের ছবিতে হিজাব ব্যবহারের অধিকারকে ধর্মীয় ও বিবেকের স্বাধীনতার সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে।
এই রায়ের পর মুসলিম নারীসহ ধর্মীয় পোশাক ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের পরিচয়পত্রের ছবিতে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির তৈরি হয়েছে। জুলাই ২০২৬-এ মেক্সিকান মুসলিম নারী আনামারিয়া তাঁর হিজাব পরা ছবি দিয়ে নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার অভিজ্ঞতাও প্রকাশ্যে তুলে ধরেন।
তবে রায়ের অর্থ এই নয় যে পাসপোর্টের ছবিতে যেকোনো ধরনের মুখঢাকা পোশাক অনুমোদিত। আদালতের সিদ্ধান্তে মূল বিষয় হলো—ধর্মীয় পোশাকটি যেন ব্যক্তির যথাযথ পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টি না করে।