চীন-রাশিয়া-ভারতের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক, বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে

চীন-রাশিয়া-ভারতের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক, ইউক্রেন যুদ্ধ ও বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় নতুন কৌশলগত সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে।

চীন-রাশিয়া-ভারতের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক, বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে

চীন-রাশিয়া-ভারতের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক, বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে


কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনকে কেন্দ্র করে চীন, রাশিয়া ও ভারতের শীর্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্মেলনের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নিচ্ছেন। 


সোমবার শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিন বৈঠক করেন। বৈঠকে শি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা বাড়লেও চীন ও রাশিয়ার সম্পর্কের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। দুই দেশ আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থার সংস্কার এবং বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে। 


অন্যদিকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা করেন নরেন্দ্র মোদি। মোদি যুদ্ধ দ্রুত শেষ করে শান্তির পথে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, মানবতার স্বার্থেই সংঘাতের অবসান প্রয়োজন। তিনি একই সঙ্গে ভারত ও রাশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। 


চীন ও রাশিয়ার মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি ভারতও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বিশেষ করে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা হিসেবে রয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও এই বাণিজ্য রাশিয়ার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 


সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বর্তমানে ১০টি পূর্ণ সদস্য দেশ নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরান ও বেলারুশ রয়েছে। সংগঠনটি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বাইরে বিকল্প সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবেও ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে। 


তবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সব বিষয়ে ঐকমত্য নেই। ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্তসহ বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে সম্মেলনটি একদিকে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হলেও অন্যদিকে ভারত নিজেদের স্বার্থ ও কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রেখেই অংশ নিচ্ছে। 


বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক, ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য—সবকিছু মিলিয়ে বিশকেকের এই বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন এবং পুতিনের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর