নিউইয়র্কের বিভিন্ন মসজিদে ধারাবাহিক চুরি, নাবিল কারতাহকে খুঁজছে পুলিশ
নিউইয়র্কের বিভিন্ন মসজিদে প্রায় দুই বছর ধরে ধারাবাহিক চুরির অভিযোগ, ৪৮ বছর বয়সী নাবিল কারতাহকে খুঁজছে পুলিশ।
নিউইয়র্কের বিভিন্ন মসজিদে ধারাবাহিক চুরি, নাবিল কারতাহকে খুঁজছে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের বিভিন্ন মসজিদে প্রায় দুই বছর ধরে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় ৪৮ বছর বয়সী নাবিল কারতাহকে খুঁজছে নিউইয়র্ক পুলিশ।
পুলিশের অভিযোগ, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিউইয়র্ক শহরের অন্তত ছয়টি মসজিদে একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মোট ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে নামাজিদের অরক্ষিত পোশাক বা ব্যাগ থেকে মানিব্যাগ ও নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যেতেন। কয়েকটি ঘটনায় ভুক্তভোগীরা পরে তাদের ব্যাংক হিসাবে অনুমোদনহীন লেনদেনও দেখতে পান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর ব্রুকলিনের মিডউড এলাকায় মাক্কি মসজিদ মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারে। সেখানে একটি অরক্ষিত পোশাক থেকে মানিব্যাগ নিয়ে প্রায় ২ হাজার ২৮০ ডলারের সম্পদ চুরির অভিযোগ রয়েছে।
এরপর ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ব্রুকলিনের সাইপ্রেস হিলস এলাকার আল-আমান মসজিদে একটি অরক্ষিত ব্যাগ থেকে মানিব্যাগ চুরির অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় প্রায় ৯৩০ ডলারের সম্পদ খোয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সর্বশেষ মসজিদ-সংক্রান্ত ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ব্রঙ্কসের গ্র্যান্ড কনকোর্স এলাকার ওমর মসজিদে। পুলিশের অভিযোগ, সেখানে একটি অরক্ষিত পোশাক থেকে মানিব্যাগ নিয়ে প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ ডলারের সম্পদ নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত ব্যক্তি।
পুলিশ জানিয়েছে, বাকি তিনটি মসজিদে চুরির ঘটনাও কুইন্স এলাকায় ঘটেছে। এ ছাড়া মসজিদের বাইরে ম্যানহাটনের লোয়ার ইস্ট সাইড এলাকায় একটি তালাবিহীন গাড়ি থেকেও প্রায় ৫ হাজার ডলার চুরির অভিযোগ রয়েছে।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের বিদ্বেষমূলক অপরাধ তদন্তকারী দল ঘটনাগুলো তদন্ত করছে। পুলিশ জানিয়েছে, নাবিল কারতাহ সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে অপরাধ দমন বিভাগকে জানাতে হবে।
তবে এখন পর্যন্ত নাবিল কারতাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
নিউইয়র্কের বিভিন্ন মসজিদে ধারাবাহিক এসব চুরির ঘটনায় মুসল্লিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ মসজিদে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র অরক্ষিত না রাখার জন্যও সতর্ক করছে।