বরখাস্ত ইমিগ্রেশন বিচারকদের তিন মামলার মধ্যে দুটি খারিজ চায় ট্রাম্প প্রশাসন
বরখাস্ত ইমিগ্রেশন বিচারকদের দায়ের করা তিন মামলার মধ্যে দুটি খারিজ করতে আদালতের কাছে আবেদন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বরখাস্ত ইমিগ্রেশন বিচারকদের তিন মামলার মধ্যে দুটি খারিজ চায় ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন বিচারকদের ব্যাপক বরখাস্ত নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে। বরখাস্ত হওয়া বিচারকদের অভিযোগ, তাদের অপসারণের পেছনে বৈষম্য, রাজনৈতিক পক্ষপাত এবং প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সঙ্গে মতপার্থক্যসহ নানা কারণ কাজ করেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিচারকদের নিয়োগ ও চাকরির মেয়াদসংক্রান্ত প্রশাসনিক ক্ষমতার ওপর জোর দিচ্ছে।
২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আদালতে বড় ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়।
দেশজুড়ে শতাধিক ইমিগ্রেশন বিচারককে বরখাস্ত বা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ইমিগ্রেশন জাজেস অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১২০ জনের বেশি বিচারক চাকরি হারিয়েছেন।
বরখাস্ত হওয়া কয়েকজন বিচারক এরপর ফেডারেল আদালতে মামলা করেন। তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বয়স, লিঙ্গ, জাতিগত পরিচয়, জাতীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বৈষম্য করার অভিযোগ। কোনো কোনো মামলায় বিচারকরা দাবি করেছেন, তাদের কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক থাকা সত্ত্বেও স্থায়ী নিয়োগ না দিয়ে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে বিচার বিভাগ এসব মামলায় আদালতের কাছে মামলা খারিজের আবেদন করছে। সরকারের যুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইমিগ্রেশন বিচারকরা সাধারণ ফেডারেল বিচারকদের মতো সংবিধানের তৃতীয় অনুচ্ছেদের অধীন স্বাধীন বিচারক নন; তারা বিচার বিভাগের অধীন নির্বাহী শাখার কর্মচারী। ফলে তাদের নিয়োগ, প্রবেশনকাল এবং চাকরি বহাল রাখার বিষয়ে সরকারের প্রশাসনিক ক্ষমতা রয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া বিচারকদের পক্ষ অবশ্য বলছে, প্রশাসনিক ক্ষমতার কথা বলে বৈষম্যমূলক বা প্রতিশোধমূলক বরখাস্তকে বৈধ করা যায় না। কয়েকটি মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বিচারকদের আগের পেশাগত কর্মকাণ্ড, অভিবাসন-অধিকার সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এই বিরোধের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হলো, নির্বাহী শাখার অধীন থাকা ইমিগ্রেশন আদালতে বিচারকদের কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আদালত বিচার বিভাগের পরিবর্তে বিচার বিভাগের অধীন নির্বাহী সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হয়। এ কারণে বিচারকদের স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।
বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে কারণ ট্রাম্প প্রশাসন একই সময়ে ইমিগ্রেশন আদালতের মাধ্যমে দ্রুত নির্বাসন কার্যক্রম বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, অভিবাসনবিষয়ক কঠোর নীতি বাস্তবায়নের চাপের সঙ্গে বিচারকদের বরখাস্তের ঘটনাগুলোকে আলাদা করে দেখা কঠিন। ব্রেনান সেন্টারের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, প্রশাসনের নীতির ফলে ইমিগ্রেশন আদালতে দ্রুত নির্বাসনের ওপর চাপ বেড়েছে এবং বিচারকদের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে বিচারক জর্জ পাপ্পাসসহ একাধিক বরখাস্ত হওয়া বিচারক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। পাপ্পাস অভিযোগ করেছেন, তাকে বয়স, জাতীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার মামলাসহ অন্যান্য মামলায় বিচারকদের চাকরিচ্যুতির বৈধতা ও প্রশাসনের ক্ষমতার সীমা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে সমালোচনা হলো, একদিকে অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন বিচারকদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নতুন বিচারক নিয়োগ করা হচ্ছে। এর ফলে আদালতের অভিজ্ঞতা, ধারাবাহিকতা এবং ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এই মামলাগুলোর ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। আদালত যদি প্রশাসনের পক্ষে অবস্থান নেয়, তাহলে ইমিগ্রেশন বিচারকদের চাকরির নিরাপত্তা ও নির্বাহী শাখার নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হতে পারে। বিপরীতে বিচারকরা জয়ী হলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বা বৈষম্যমূলক কারণে বিচারকদের অপসারণের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির তৈরি হতে পারে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিকে ঘিরে আদালতে একের পর এক মামলা চলতে থাকায় ইমিগ্রেশন বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া বিচারকদের মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানি ও আদালতের সিদ্ধান্ত থেকেই পরিষ্কার হবে, নির্বাহী শাখা ইমিগ্রেশন বিচারকদের ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে।