সিঙ্গাপুরে সন্তান জন্মে প্রায় ৭০ হাজার ডলারের সরকারি সহায়তা, সুবিধা পাবেন নাগরিক শিশুরা
সিঙ্গাপুরে সন্তান জন্মে নাগরিক পরিবারকে ১৭ বছর পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার ডলারের সরকারি সহায়তা, থাকছে নগদ অর্থ, শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা।
সিঙ্গাপুরে সন্তান জন্মে প্রায় ৭০ হাজার ডলারের সরকারি সহায়তা, সুবিধা পাবেন নাগরিক শিশুরা
সন্তান জন্ম ও লালন-পালনের ব্যয় কমাতে সিঙ্গাপুর সরকার নতুন বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। নতুন ‘এসজি চাইল্ড সাপোর্ট প্যাকেজ’-এর আওতায় জন্ম থেকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি সিঙ্গাপুরের নাগরিক শিশু প্রায় ৭০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারের সরাসরি সরকারি সহায়তা পেতে পারে।
নতুন এই প্যাকেজটি ২০২৬ সালের জাতীয় দিবস সমাবেশে ঘোষণা করা হয়। এটি বিদ্যমান ‘বেবি বোনাস’ ও ‘লার্জ ফ্যামিলিজ’ কর্মসূচির পরিবর্তে চালু হবে। নতুন ব্যবস্থায় শিশুর জন্মক্রম অনুযায়ী সুবিধার পার্থক্য থাকবে না; প্রতিটি যোগ্য সিঙ্গাপুরের নাগরিক শিশু সমান সহায়তা পাবে।
নতুন ব্যবস্থায় একটি শিশু জন্মের পর প্রথম বছরে ১০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার নগদ ‘বেবি গিফট’ পাবে। এই অর্থ শিশুর জন্মের ১২ মাসের মধ্যে দুই কিস্তিতে দেওয়া হবে। তবে নতুন বেবি গিফটের নিয়ম কার্যকর হবে ১ এপ্রিল ২০২৭ বা তার পরে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য।
শিশুর বয়স ১ থেকে ১৬ বছর পর্যন্ত প্রতি বছর ২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার করে ‘চাইল্ড ক্রেডিটস’ দেওয়া হবে। ১৬ বছরে মোট এই সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে ৩২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার।
এ ছাড়া শিশুর জন্য চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাকাউন্টে ৫ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারের প্রাথমিক অনুদান দেওয়া হবে। বাবা-মায়ের জমার বিপরীতে সরকার আরও সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার সমপরিমাণ অর্থ যোগ করতে পারে।
শিশুর বয়স ১৭ বছর হলে উচ্চশিক্ষার ব্যয় মেটাতে তার পোস্ট-সেকেন্ডারি এডুকেশন অ্যাকাউন্টে আরও ১০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার জমা দেওয়া হবে। পাশাপাশি নবজাতকের জন্য বিদ্যমান ৫ হাজার ডলারের মেডিসেভ অনুদান এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে এডুসেভে বিভিন্ন অবদানও রয়েছে। এসব সুবিধা মিলিয়ে জন্ম থেকে ১৭ বছর পর্যন্ত মোট সরকারি সহায়তা প্রায় ৭০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারে পৌঁছাতে পারে।
তবে এই অর্থ শিশুর জন্মের সময় একবারে দেওয়া হবে না। বয়স ও কর্মসূচি অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে নগদ অর্থ, শিক্ষা হিসাব, মেডিসেভ এবং অন্যান্য সুবিধার মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন ‘এসজি চাইল্ড সাপোর্ট প্যাকেজ’-এর সুবিধাভোগী হতে হলে শিশুকে সিঙ্গাপুরের নাগরিক হতে হবে। তাই সিঙ্গাপুরে বসবাসরত বিদেশি নাগরিক বা প্রবাসী কর্মীদের সন্তান জন্মালেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরো প্যাকেজ পাওয়ার সুযোগ নেই। যোগ্যতা শিশুর নাগরিকত্ব ও নির্দিষ্ট অন্যান্য শর্তের ওপর নির্ভর করবে।
সরকারের নতুন এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো পরিবারগুলোর সন্তান লালন-পালনের আর্থিক চাপ কমানো এবং সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারগুলোকে আরও উৎসাহিত করা। সিঙ্গাপুরে জন্মহার নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে পরিবারবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে নতুন প্যাকেজটিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।