ধর্মীয় উস্কানি ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: প্রশ্নের মুখে এরশাদ বোখারী

দিনাজপুরের ইসলামি বক্তা ড. সৈয়দ এরশাদ আহমেদ আল বোখারীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় উস্কানি ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শিয়া মতাদর্শের অনুসারীদের নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক উগ্র বক্তব্য ও রাজপথে মাদ্রাসা ছাত্রদের নামিয়ে দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর কথিত সাংগঠনিক সম্পর্ক সামনে এনে সমালোচকরা দাবি করছেন, এই তৎপরতা বর্তমান সরকার অস্থিতিশীল করার এক বড় পরিকল্পনার অংশ।

ধর্মীয় উস্কানি ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: প্রশ্নের মুখে এরশাদ বোখারী

ধর্মীয় উস্কানি ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: প্রশ্নের মুখে এরশাদ বোখারী


দিনাজপুরের বিতর্কিত ইসলামি বক্তা ড. সৈয়দ এরশাদ আহমেদ আল বোখারীকে ঘিরে ধর্মীয় উস্কানি এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শিয়া মতাদর্শের অনুসারীদের লক্ষ্য করে তাঁর সাম্প্রতিক উগ্র বক্তব্য ও রাজপথে মাদ্রাসা ছাত্রদের নামিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান শিয়া-সুন্নি সম্প্রীতি নষ্ট করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

ড. এরশাদ বোখারী মূলত বিভিন্ন মাহফিল ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্যের মাধ্যমে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড ধর্মীয় ব্যাখ্যার সীমা ছাড়িয়ে উস্কানির রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশে শিয়া ও সুন্নি মুসলমানরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করে আসছে, যা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কিন্তু হঠাৎ করে এরশাদ বোখারীর এই কঠোর অবস্থান ও রাজপথে আন্দোলন স্থানীয় জনসাধারণের মনে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।


সমালোচকরা এই পুরো ঘটনাকে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন। অভিযোগ রয়েছে, এরশাদ বোখারী মূলত ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠন ওলামা লীগের একজন সক্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে এবং স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে তিনি শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।

এই রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি সামনে রেখেই তাঁর সাম্প্রতিক ধর্মীয় বক্তব্যের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকেই দাবি করছেন, জনগণের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দলটি বর্তমানে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। এরশাদ বোখারীর মাধ্যমে শিয়া-সুন্নি দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা সেই পরিকল্পনারই অংশ বলে মনে করছেন অনেকে। তাঁদের যুক্তি, আওয়ামী লীগ বিগত ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন এই ব্যক্তি কখনো শিয়াদের বিরুদ্ধে কোনো উস্কানিমূলক বক্তব্য বা পদক্ষেপ নেননি। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।


ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই তৎপরতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। জুয়েল শিকদার, পারভেজ রেজা, ইমাদ উদ্দিন ইমদাদ এবং সৈয়দ নাঈম হুসাইনের মতো বিভিন্ন ফেসবুক ব্যবহারকারী তাঁদের পোস্টে এরশাদ বোখারীর কড়া সমালোচনা করেছেন এবং তাঁকে “শেখ হাসিনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী” ও “ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদের দোসর” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এসব পোস্টে এরশাদ বোখারীর রাজনৈতিক পরিচয় এবং তাঁর সাম্প্রতিক উস্কানিমূলক তৎপরতার জন্য তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার দাবি জানানো হয়েছে।

পারভেজ রেজার ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে বলা হয়েছে, “পলাতক প্রধানমন্ত্রী খুনি শেখ হাসিনার পরিকল্পনা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য সরকার কে বিপদে ফেলতে ধর্মীয় উগ্রবাদকে উসকে দেয়ার চেষ্টা বাংলাদেশ আওয়ামী ওলেমা লীগের সাবেক সহ-সভাপতি খুনি শেখ হাসিনার স্পোক ম্যান ফ্যাসিবাদের দোসর ভন্ড মুখোশধারী এরশাদ বুখারীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি,সকলের কাছে অনুরোধ বেশি বেশি শেয়ার করে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যে বজায় রাখতে সহযোগিতা করুন।”


অনুরূপভাবে সৈয়দ নাঈম হুসাইন তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “পলাতক প্রধানমন্ত্রী খুনি শেখ হাসিনার পরিকল্পনা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ধর্মীয় উগ্রবাদকে উসকে দেয়ার চেষ্টা বাংলাদেশ আওয়ামী ওলেমা লীগের সাবেক সহ-সভাপতি খুনি শেখ হাসিনার স্পোক ম্যান ফ্যাসিবাদের দোসর ভন্ড মুখোশধারী এরশাদ বুখারীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।”

ইমাদ উদ্দিন ইমদাদ ও জুয়েল শিকদারও প্রায় একই ভাষায় এরশাদ বোখারীকে গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন, যেখানে অভিযোগ রয়েছে, “পলাতক প্রধানমন্ত্রী খুনি শেখ হাসিনার পরিকল্পনা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ধর্মীয় উগ্রবাদকে উসকে দেয়ার চেষ্টা বাংলাদেশ আওয়ামী ওলেমা লীগের সাবেক সহ-সভাপতি খুনি শেখ হাসিনার স্পোক ম্যান ফ্যাসিবাদের দোসর ভন্ড মুখোশধারী এরশাদ বুখারীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।”


তবে এসব গুরুতর অভিযোগের বিপরীতে এরশাদ বোখারীর অনুসারীরা এগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, তিনি কেবল নিজস্ব ধর্মীয় ব্যাখ্যা তুলে ধরছেন। যদিও বিতর্কের মূল বিষয় হলো এই বক্তব্যের সামাজিক প্রভাব এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির আশঙ্কা। বাংলাদেশের মতো বহুত্ববাদী সমাজে কোনো ধর্মীয় বক্তব্যের ফলে যদি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, তবে তা শুধু মতাদর্শগত বিতর্ক হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ থাকে না।

এমতাবস্থায়, এরশাদ বোখারীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সঠিক তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সাংগঠনিক সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই সম্পর্কের জেরেই রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ধর্মীয় উস্কানি দেওয়া হচ্ছে, তবে বিষয়টি আইনি ব্যবস্থার আওতায় আসা জরুরি। অন্যথায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার ভিত্তিতে ভিত্তিহীন অভিযোগও একটি ভুল বার্তা দেবে। সব মিলিয়ে, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে ধর্মীয় বিভাজনের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের দাবি বাড়ছে।



সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর