হিউস্টনে গুলিতে স্বজন হারিয়ে আটক সাক্ষী, আদালতের নির্দেশে অবশেষে মিলল মুক্তি

হিউস্টনে গুলিতে স্বজন হারিয়ে আটক দ্বিতীয় সাক্ষী, আদালতের নির্দেশে মুক্তি, ন্যায়বিচারের আশায় এখনো অপেক্ষায় নিহতের পরিবার ও স্বজনরা সবাই।

হিউস্টনে গুলিতে স্বজন হারিয়ে আটক সাক্ষী, আদালতের নির্দেশে অবশেষে মিলল মুক্তি

হিউস্টনে গুলিতে স্বজন হারিয়ে আটক সাক্ষী, আদালতের নির্দেশে অবশেষে মিলল মুক্তি


যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় আটক দ্বিতীয় প্রত্যক্ষদর্শীকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল আদালতের বিচারক।


মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ফেডারেল বিচারক আলফ্রেড এইচ. বেনেট ড্যানিয়েল তিরাদো পান্তোহাকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেন। তিনি নিহত লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর গাড়িতে থাকা তিন যাত্রীর একজন ছিলেন।

গত ৭ জুলাই হিউস্টনে গাড়ি থামানোর সময় অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে সালগাদো আরাউহো নিহত হন। কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তাদের আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। আত্মরক্ষার জন্যই গুলি চালানো হয়েছিল বলে কর্মকর্তারা দাবি করেন।


তবে গাড়িতে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তাদের দাবি, গাড়িটি থামানো অবস্থায় ছিল এবং কর্মকর্তাদের গাড়ি পেছন ও পাশ থেকে তাদের গাড়িতে আঘাত করার পর গুলি চালানো হয়।


আদালতের নথি অনুযায়ী, পান্তোহার কোনো অপরাধের ইতিহাস নেই। তিনি পালিয়ে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কারও যথেষ্ট কারণ নেই বলে বিচারক মনে করেন। একই সঙ্গে তাকে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবেও বিবেচনা করা হয়নি।


বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন, আদালতের আদেশ জারির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পান্তোহাকে মুক্তি দিতে হবে। তাকে আবার আটক করতে হলে কর্তৃপক্ষকে আদালতে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছেন অথবা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছেন।


এ ঘটনায় এর আগে আরেক প্রত্যক্ষদর্শীকেও আদালতের নির্দেশে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। ফলে গুলির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তিন প্রত্যক্ষদর্শীর মধ্যে দুজন এখন মুক্তি পাওয়ার সুযোগ পেলেন।


এদিকে নিহত সালগাদো আরাউহোর ভাই ভিক্টর সালগাদো আরাউহো এখনো অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন। তিনিও মুক্তির আবেদন করেছেন।


ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গুলি চালানোর পরিস্থিতি এবং অভিবাসন কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।


তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গুলি চালানোর ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে দায় নির্ধারণ করা হয়নি।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর