নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা: মৃতের সংখ্যা ৯৫, নিখোঁজ প্রায় ৪০০

নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৪০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক ও ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় (NRI) রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রায় ছিলেন

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা: মৃতের সংখ্যা ৯৫, নিখোঁজ প্রায় ৪০০

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা: মৃতের সংখ্যা ৯৫, নিখোঁজ প্রায় ৪০০


নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৪০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক ও ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় (NRI) রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রায় ছিলেন।

বুধবার ভোতে কোশি নদীতে হঠাৎ পানির প্রবল স্রোত সৃষ্টি হয়ে রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিংসহ কয়েকটি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। বন্যার স্রোতে যানবাহন, সেতু, বাড়িঘর, গ্রাম এবং কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেসে গেছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী Balendra Shah জানিয়েছেন, ৯০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৫০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুর হাসপাতালগুলোতে ১০০টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গুরুতর আহতদের হেলিকপ্টারে করে রাজধানীতে নেওয়া হচ্ছে।

নেপাল সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও নেপাল পুলিশ ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। অভিযানে ১৪টি হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি হিসাবে, ১৯টি মোটরযোগ্য সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যার সম্ভাব্য কারণ

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিব্বত অঞ্চলে হিমবাহ-সংলগ্ন হ্রদের আকস্মিক পানি নিঃসরণ (Glacial Lake Outburst Flood—GLOF) অথবা ভূমিধসের কারণে ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক পানির ঢল নেমে আসতে পারে। তবে দুর্যোগটির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো তদন্তাধীন।

ভারত থেকে জরুরি সহায়তা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সব ধরনের মানবিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভারত ইতোমধ্যে নেপালে ১০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিমানে এসব ত্রাণ পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (NDRF)-এর দল পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ভারতের উত্তর প্রদেশে নেপালে আটকে পড়া নাগরিকদের পরিবারের জন্য জরুরি হেল্পলাইন ১০৭০ চালু করা হয়েছে। বিহার ও উত্তর প্রদেশেও সম্ভাব্য নিম্নমুখী বন্যার পানি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পর্যটকদের নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ৩৮৪ জনের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। ভারতীয় পর্যটকদের বড় একটি অংশ কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় ছিলেন বলে তাঁদের অবস্থান নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য নেপালে আটকে থাকা পর্যটকদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। মহারাষ্ট্রের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ পর্যটকদের নাম, অবস্থান, স্থানাঙ্ক এবং পাসপোর্ট বা ভিসা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করছে।

উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত

প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কাঠমান্ডুর প্রধান হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসক দল দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে।

তবে দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড, যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি এবং নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর