নিউইয়র্কে বাড়ির কর নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, আপিলের সময় বাড়িয়ে ৬ অক্টোবর
নিউইয়র্কে বাড়ির কর নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, আপিলের সময় বাড়ল, ভুল নোটিশ পাওয়া ১,২০০ মালিককে করমুক্তির সুযোগ দিল নগর কর্তৃপক্ষ এবার।
নিউইয়র্কে বাড়ির কর নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, আপিলের সময় বাড়িয়ে ৬ অক্টোবর
নিউইয়র্ক সিটিতে বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর নতুন ‘পিয়েড-আ-তের’ কর নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার মধ্যে বাড়ির মালিকদের জন্য আবেদনের সময়সীমা আবারও বাড়িয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকরা আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত কর থেকে অব্যাহতির আবেদন বা নিজেদের প্রাথমিক বাসস্থান হিসেবে প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
নতুন এই কর মূলত নিউইয়র্ক সিটিতে থাকা উচ্চমূল্যের এমন বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টকে লক্ষ্য করে, যেগুলো মালিকের প্রধান বাসস্থান নয়। আইন অনুযায়ী, ৫ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি মূল্যের এক থেকে তিন পরিবারের বাড়ি এবং নির্দিষ্ট মূল্যমানের কনডো বা কো-অপ ইউনিটের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হতে পারে।
তবে কর বাস্তবায়নের শুরুতেই বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়। নগর কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৭ হাজার সম্পত্তির মালিককে নোটিশ পাঠিয়েছিল। তাদের অনেককে প্রমাণ করতে বলা হয় যে সংশ্লিষ্ট বাড়িটিই তাদের প্রধান বাসস্থান এবং তারা নতুন অতিরিক্ত করের আওতায় পড়বেন না।
পরে নগর কর্তৃপক্ষের নতুন আদালত নথিতে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে করের সম্ভাব্য আওতায় থাকা ১ হাজার ২১০ জন সম্পত্তির মালিক আসলে নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা এবং তাদের বাড়ি প্রধান বাসস্থান হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। ফলে এসব মালিকের ওপর ওই অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হবে না।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি আপিল জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৯২টি আপিল অনুমোদন করা হয়েছে এবং আরও ২ হাজার ৬৫২টি আবেদন পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের রাজ্য কর-সংক্রান্ত নতুন তথ্য পাওয়ার পর আরও প্রায় ১০ হাজার ৮০০ সম্পত্তির মালিককে নোটিশ পাঠানো হবে। এসব নোটিশে মালিকদের জানানো হবে, তাদের বাড়ি প্রধান বাসস্থান হলে তা প্রমাণ করতে হবে। নতুন নোটিশগুলো ৩১ আগস্টের মধ্যে পাঠানোর কথা রয়েছে।
কর নিয়ে বিতর্কের অন্যতম কারণ হলো নগর কর্তৃপক্ষের প্রাথমিকভাবে বিপুলসংখ্যক সম্পত্তির তথ্য প্রকাশ করা। প্রায় ৯ লাখ সম্পত্তির একটি তালিকা প্রকাশের পর অনেক বাড়ির মালিক ধারণা করেন, তারা নতুন করের আওতায় পড়েছেন। পরে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে যে ওই তালিকার অধিকাংশ সম্পত্তির মালিককে অতিরিক্ত কর দিতে হবে না।
এদিকে কয়েকজন বাড়ির মালিক নগর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, নিজেদের বাড়িতেই বসবাস করেন এটি প্রমাণ করার দায়িত্ব মালিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলায় কর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
নগর কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, বাড়ির মালিকদের নিজেদের প্রধান বাসস্থান প্রমাণ করার প্রক্রিয়াটি আইনেই নির্ধারিত এবং প্রশাসন বিভ্রান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভুলভাবে নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের আবেদন করার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।
কর নিয়ে মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুনানি ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর কর বাস্তবায়নের ভবিষ্যৎ নিয়েও নজর রয়েছে।
নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে যাদের উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ি বা বিনিয়োগ সম্পত্তি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো সম্পত্তি করের আওতায় পড়বে কি না, তা নির্ভর করবে সম্পত্তির মূল্য, ব্যবহার এবং সেটি মালিকের প্রধান বাসস্থান কি না এসব বিষয়ের ওপর।