নিউইয়র্কে আইসের সহযোগিতা সীমিত করে নতুন আইন কার্যকর, বাড়ছে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত

নিউইয়র্কে আইসের সহযোগিতা সীমিত, স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে চুক্তি ও অভিবাসী আটক নিয়ে নতুন আইন কার্যকর।

নিউইয়র্কে আইসের সহযোগিতা সীমিত করে নতুন আইন কার্যকর, বাড়ছে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত

নিউইয়র্কে আইসের সহযোগিতা সীমিত করে নতুন আইন কার্যকর, বাড়ছে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত


যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা সীমিত করার নতুন আইন ২৫ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফের কার্যালয়গুলো আর নির্দিষ্ট ধরনের ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রমে সরাসরি সহযোগিতা করতে পারবে না।

নতুন ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় বিষয় হলো ‘২৮৭(জি)’ চুক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা বা আইসের এই কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বাচিত সদস্যরা নির্দিষ্ট ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রম পরিচালনা বা সহায়তা করার ক্ষমতা পেতে পারেন। নিউইয়র্কের নতুন আইন স্থানীয় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোকে এ ধরনের চুক্তি করা বা চালু রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের নেতৃত্বে করা ‘লোকাল কপস, লোকাল ক্রাইমস অ্যাক্ট’-এর অধীনে শুধু নতুন চুক্তিই নয়, আগে থেকে থাকা ২৮৭(জি) চুক্তিগুলোও ২৫ আগস্টের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা ছিল। রাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, এর আগে নিউইয়র্কের ১২টি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সঙ্গে এমন চুক্তি ছিল।

আইনটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় কারাগার ও আটককেন্দ্রের ব্যবহার। নতুন বিধানের আওতায় রাজ্য ও স্থানীয় সংশোধনাগার, কিশোর আটককেন্দ্র এবং তরুণদের জন্য নির্ধারিত কিছু স্থাপনা ফেডারেল দেওয়ানি অভিবাসন আটক ব্যক্তিদের রাখার কাজে ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু স্থানীয় পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নয়, অভিবাসন আটক কার্যক্রমে স্থানীয় সরকারি অবকাঠামো ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ এসেছে।

নিউইয়র্কের কর্মকর্তাদের যুক্তি, স্থানীয় পুলিশকে স্থানীয় অপরাধ মোকাবিলা ও জননিরাপত্তায় মনোযোগী রাখা উচিত। রাজ্য সরকারের মতে, ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করলে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা কমতে পারে এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তি বা প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশের কাছে যেতে ভয় পেতে পারেন।

তবে আইনটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধ তীব্র হয়েছে। নিউইয়র্কের কয়েকটি কাউন্টি ও শেরিফ এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছেন। রেনসেলার কাউন্টিও রাজ্যের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে ১৫ জন নিউইয়র্ক শেরিফ নতুন আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের কার্যালয় আইন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ২৫ আগস্ট কয়েকটি কাউন্টির বিরুদ্ধে আইন মেনে চলার বিষয়ে তথ্য চেয়ে তলবপত্র পাঠানো হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, রাজ্যের আইন অমান্য করলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ফলে নতুন আইনকে ঘিরে নিউইয়র্ক ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে অভিবাসন নীতি নিয়ে পুরোনো বিরোধ আরও প্রকাশ্য রূপ পেয়েছে। একদিকে রাজ্য সরকার স্থানীয় সম্পদ ও পুলিশকে ফেডারেল অভিবাসন অভিযানে ব্যবহারের বিরোধিতা করছে, অন্যদিকে ফেডারেল সরকার ও কিছু স্থানীয় কর্মকর্তা মনে করছেন, অপরাধে জড়িত অভিবাসীদের শনাক্ত ও আটক করতে স্থানীয় সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে নতুন আইন আইসের সব ধরনের কার্যক্রম নিউইয়র্কে বন্ধ করে দেয়নি। মূলত স্থানীয় সরকারি সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্বেচ্ছামূলক সহযোগিতা, ২৮৭(জি) ধরনের চুক্তি এবং স্থানীয় আটক স্থাপনা ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ফেডারেল সরকারের নিজস্ব অভিবাসন কর্তৃত্ব আলাদাভাবে বহাল রয়েছে।

এই আইনি সংঘাত এখন আদালতে গড়ানোয় সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার কতটা ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে বাধ্য বা স্বাধীন—এ প্রশ্নটি নিউইয়র্কের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর