জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর গ্রেপ্তার প্রায় ৫০ হাজার, ট্রাম্পের আমলে এক মাসে সর্বোচ্চ

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর গ্রেপ্তার প্রায় ৫০ হাজারে পৌঁছেছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাসে এটিই সর্বোচ্চ গ্রেপ্তার।

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর গ্রেপ্তার প্রায় ৫০ হাজার, ট্রাম্পের আমলে এক মাসে সর্বোচ্চ

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর গ্রেপ্তার প্রায় ৫০ হাজার, ট্রাম্পের আমলে এক মাসে সর্বোচ্চ


যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। নতুন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা—আইসিই ৪৯ হাজার ৫৭১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাসে এটিই আইসিইর সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের সংখ্যা। 

জুলাইয়ের গ্রেপ্তার জুনের ৪৩ হাজার ২১ জনের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। ফেব্রুয়ারিতে আইসিই ২৯ হাজার ২৪১ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। সেই তুলনায় জুলাইয়ের সংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে। 

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আইসিইর দেওয়া সরকারি তথ্য ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলির ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্টে সরবরাহ করা হয়। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে জুলাইয়ের এই রেকর্ড গ্রেপ্তারের সংখ্যা পাওয়া গেছে। 

ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে বড় শহরগুলোতে ব্যাপক ও প্রকাশ্য অভিবাসন অভিযান চালানো হয়েছিল। এসব অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিবাদ হয়। পরে আইসিই তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনে। বড় ধরনের প্রকাশ্য অভিযানের পাশাপাশি এখন ট্রাফিক থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতা এবং অন্যান্য তুলনামূলক কম দৃশ্যমান অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার বাড়ানো হচ্ছে। 

জুলাইয়ের গ্রেপ্তারের বড় একটি অংশ হয়েছে টেক্সাস ও ফ্লোরিডায়। দুই অঙ্গরাজ্য মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই দুই রাজ্য আইসিইর সঙ্গে ২৮৭(জি) ধরনের সহযোগিতা চুক্তি ব্যবহারে এগিয়ে রয়েছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ক্ষমতা পাওয়া স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য কর্মকর্তারা ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে আইসিইকে সহযোগিতা করতে পারেন। 

গ্রেপ্তার বৃদ্ধির সঙ্গে আইসিইর জনবল বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটি প্রায় ১২ হাজার নতুন নির্বাসন কর্মকর্তা ও তদন্তকারী নিয়োগ করেছে। গত বছর কংগ্রেসের কাছ থেকে আইসিই অতিরিক্ত কয়েক বিলিয়ন ডলার অর্থও পেয়েছে। 

জুলাইয়ের তথ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের অর্ধেকের বেশি কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বা অভিযোগের মুখোমুখি ছিলেন না বলে এপি-র বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এ কারণে অভিবাসন অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। 

অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, অপরাধের রেকর্ড না থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হলে পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বহিষ্কারের নীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার আগের মাসে আইসিইর গ্রেপ্তার ছিল ৮ হাজারের কিছু বেশি। এরপর ২০২৫ সালের শেষ দিকে গ্রেপ্তার বাড়তে বাড়তে ডিসেম্বরে ৪০ হাজার ১৭৭-এর বেশি হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা কমে ২৯ হাজারের কিছু বেশি হলেও জুন ও জুলাইয়ে আবার দ্রুত বেড়েছে।

তবে আইসিইর গ্রেপ্তার মানেই তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা নয়। গ্রেপ্তারের পর আটক, অভিবাসন আদালতের কার্যক্রম, মুক্তি কিংবা শেষ পর্যন্ত বহিষ্কার—বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া হতে পারে।

জুলাইয়ের এই রেকর্ড গ্রেপ্তার দেখাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক বহিষ্কার নীতি এখনো জোরালোভাবে চলছে। একই সঙ্গে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পুলিশের সঙ্গে আইসিইর সহযোগিতা বাড়ায় আগামী মাসগুলোতে অভিবাসন অভিযান আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর