যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যামিলি ভিসায় বাংলাদেশিদের সুখবর, অপেক্ষমাণদের আবেদনে বড় অগ্রগতি
যুক্তরাষ্ট্রের পারিবারিক ভিসায় বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর, অপেক্ষমাণ আবেদনকারীদের ভিসা পাওয়ার পথ কিছুটা সহজ হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যামিলি ভিসায় বাংলাদেশিদের সুখবর, অপেক্ষমাণদের আবেদনে বড় অগ্রগতি
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাওয়ার জন্য পারিবারিক অভিবাসন ভিসার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। একদিকে আগস্ট ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিনে বেশ কয়েকটি পারিবারিক ভিসা শ্রেণিতে কাট-অফ তারিখ এগিয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা স্থগিত রাখার নীতিকে আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আগস্ট ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সাধারণত ‘অল চার্জেবিলিটি এরিয়াস’ বা আলাদা করে তালিকাভুক্ত নয় এমন দেশগুলোর সারিতে পড়ে। এই শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য পারিবারিক ভিসার বিভিন্ন বিভাগে অগ্রগতি দেখা গেছে।
আগস্টের বুলেটিনে এফ১ শ্রেণির চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ হয়েছে ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮। এই শ্রেণিতে মার্কিন নাগরিকদের অবিবাহিত ছেলে-মেয়েরা অন্তর্ভুক্ত।
স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য এফ২এ শ্রেণির চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ ২২ জুলাই ২০২৬ করা হয়েছে। স্থায়ী বাসিন্দাদের ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত ছেলে-মেয়েদের জন্য এফ২বি শ্রেণির তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৮।
এ ছাড়া মার্কিন নাগরিকদের বিবাহিত ছেলে-মেয়েদের জন্য এফ৩ শ্রেণির চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ ১৫ মে ২০১২, আর মার্কিন নাগরিকদের ভাই-বোনদের জন্য এফ৪ শ্রেণির তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০০৯।
এর অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট শ্রেণির যেসব বাংলাদেশি আবেদনকারীর অগ্রাধিকারের তারিখ প্রকাশিত কাট-অফ তারিখের আগের, তাদের ক্ষেত্রে ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে শুধু আবেদন জমা দেওয়া থাকলেই এখনই ভিসা পাওয়া যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই।
অগ্রাধিকারের তারিখ, আবেদন শ্রেণি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অন্যান্য যোগ্যতার বিষয় বিবেচনা করা হয়। এর পাশাপাশি বাংলাদেশিদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি এসেছে। ২১ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখা হয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন জেলা বিচারক জ্যানেট ভার্গাস ওই নীতিকে আইনবহির্ভূত বলে রায় দেন।
নাগরিকত্বের ভিত্তিতে আবেদনকারীদের অভিবাসন ভিসা দেওয়া সামগ্রিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার নীতি মার্কিন অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা ওই নীতির আওতায় পড়েছিলেন।
এই রায়ের ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের পারিবারিক অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়ায় একটি বড় আইনি বাধা দূর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য অভিবাসন ভিসার আবেদন করেছিলেন, তাদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে আদালতের রায় এবং ভিসা বুলেটিন দুটি বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়। আদালতের রায় একটি স্থগিত নীতির আইনি বৈধতা নিয়ে, আর ভিসা বুলেটিন নির্ধারণ করে কোন অগ্রাধিকারের তারিখের আবেদনকারীদের জন্য নির্দিষ্ট মাসে ভিসা নম্বর পাওয়া যেতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিজেও সতর্ক করেছে যে, বিভিন্ন শ্রেণিতে সাম্প্রতিক সময়ে তারিখ এগোলেও ভবিষ্যতে চাহিদা বাড়লে আবার তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে। এমনকি কোনো শ্রেণির বার্ষিক ভিসা সংখ্যা শেষ হয়ে গেলে সেটি সাময়িকভাবে অনুপলব্ধও হতে পারে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভিসা বুলেটিনে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর বুলেটিন ইতোমধ্যে ‘আপকামিং’ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য পরবর্তী মাসে কাট-অফ তারিখ কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশিদের জন্য সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে ইতিবাচক অগ্রগতি বলা যায়। বিশেষ করে এফ২এসহ কয়েকটি পারিবারিক ভিসা শ্রেণিতে অগ্রাধিকারের তারিখ এগিয়ে আসা এবং বাংলাদেশিদের অভিবাসন ভিসা স্থগিত রাখার নীতির বিরুদ্ধে আদালতের রায় অপেক্ষমাণ পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ফলাফল নির্ভর করবে তার ভিসা শ্রেণি, অগ্রাধিকারের তারিখ, নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার অবস্থার ওপর।