গার্ডেন গ্রোভে রাসায়নিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি
গার্ডেন গ্রোভে রাসায়নিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জন্য ১০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি ঘোষণা, কারখানা চালুর আগে নিরাপত্তা যাচাই চলছে।
গার্ডেন গ্রোভে রাসায়নিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার গার্ডেন গ্রোভে জিকেএন অ্যারোস্পেস কারখানায় ভয়াবহ রাসায়নিক সংকটের কয়েক মাস পর ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ কোটি ডলারের দাবি নিষ্পত্তি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। মে মাসের ওই ঘটনায় সম্ভাব্য বিস্ফোরণ ও রাসায়নিক ঝুঁকির আশঙ্কায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে বাড়িঘর ছাড়তে হয়েছিল।
অরেঞ্জ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, জিকেএন অ্যারোস্পেসের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে একটি দেওয়ানি সমঝোতার আলোচনা চলছে। এই কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা রাসায়নিক ঘটনার কারণে হওয়া বিভিন্ন খরচ ও ক্ষতির জন্য দাবি করতে পারবেন। তবে ১০ কোটি ডলার সবার জন্য নিশ্চিতভাবে দেওয়া হবে এমন নয়; এটি কর্মসূচিটির সর্বোচ্চ সীমা।
গত ২১ মে জিকেএন অ্যারোস্পেসের গার্ডেন গ্রোভ কারখানায় রাসায়নিক বহনকারী একটি বড় ট্যাংক অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় ।
ট্যাংকটিতে মিথাইল মেথাক্রাইলেট নামের দাহ্য রাসায়নিক ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বড় ধরনের বিস্ফোরণের আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রায় ১৩ হাজার থেকে ১৭ হাজার পরিবার, অর্থাৎ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ এই সরিয়ে নেওয়ার আদেশের আওতায় পড়েন।
এই ঘটনায় গার্ডেন গ্রোভের পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি এলাকাতেও মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। অনেক বাসিন্দাকে কয়েক দিন বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা, কর্মস্থলে যেতে না পারা, হোটেলে থাকা, খাবার ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়েন অনেকে। নতুন দাবি নিষ্পত্তি কর্মসূচিতে এসব ক্ষতির কিছু অংশের জন্য অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
তবে এখনো কর্মসূচির আবেদন পদ্ধতি ও কারা কী পরিমাণ অর্থ পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত নিয়ম প্রকাশ করা হয়নি। গার্ডেন গ্রোভ শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শরৎকালে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদন করার পদ্ধতি পরে জানানো হবে।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে অরেঞ্জ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ের অপরাধ তদন্ত শেষ হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের পর কারখানাটির পরিচালকদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হচ্ছে না। তবে দেওয়ানি সমঝোতার আলোচনায় ক্ষতিপূরণ ছাড়াও নিরাপত্তা পরিকল্পনা, সরকারি সংস্থাগুলোর জরুরি ব্যয়ের অর্থ ফেরত এবং কারখানার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ওপর স্বাধীন নজরদারির বিষয় রয়েছে।
কারখানাটি বর্তমানে পুরোপুরি স্বাভাবিক উৎপাদনে নেই। জিকেএন অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত রাসায়নিক ট্যাংকটি স্থায়ীভাবে ব্যবহার থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কারখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে পূর্ণ উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে এর আগে আদালত অনুমোদিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং স্বাধীন পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা কার্যকর হতে হবে।
অরেঞ্জ কাউন্টি কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, কারখানা ও আশপাশের এলাকায় বায়ুর মা ।
পর্যবেক্ষণসহ নিরাপত্তা কার্যক্রম চালু রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতির পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ঝুঁকি কমানোর কাজেও বিভিন্ন সরকারি সংস্থা যুক্ত ছিল।
গার্ডেন গ্রোভের এই ঘটনা শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জিকেএন অ্যারোস্পেসের ওই কারখানায় বাণিজ্যিক ও সামরিক উড়োজাহাজের বিভিন্ন অংশ তৈরি করা হয়। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিমান যন্ত্রাংশের সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ কোটি ডলারের কর্মসূচি ঘোষণাকে ঘটনার পর বড় ধরনের দায়বদ্ধতার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রকৃতপক্ষে কতজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অর্থ পাবেন এবং প্রত্যেকে কত টাকা পাবেন, তা আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরই পরিষ্কার হবে।