যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার বড় চ্যালেঞ্জ: উভয় পক্ষই চায় নিজেদের বিজয়ী হিসেবে দেখাতে

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনার মূল কাঠামো মোটামুটি স্পষ্ট। কিন্তু প্রধান বাধা হলো এমন একটি সমঝোতা তৈরি করা, যাতে উভয় পক্ষই নিজেদের জনগণের কাছে এটিকে বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে

PostImage

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার বড় চ্যালেঞ্জ: উভয় পক্ষই চায় নিজেদের বিজয়ী হিসেবে দেখাতে


ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনার মূল কাঠামো মোটামুটি স্পষ্ট। কিন্তু প্রধান বাধা হলো এমন একটি সমঝোতা তৈরি করা, যাতে উভয় পক্ষই নিজেদের জনগণের কাছে এটিকে বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই দেশই যুদ্ধে পুরোপুরি জয়ী নয়, আবার সম্পূর্ণ পরাজিতও নয়। তাই তারা একটি চুক্তি চাইলেও এমন কিছু অর্জন করতে চায় যা নিজেদের দেশের কঠোরপন্থী ও সমর্থকদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

নেতৃত্বের জটিলতা

আলোচনাকে আরও কঠিন করে তুলেছে দুই দেশের নেতাদের ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক বাস্তবতা।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Mojtaba Khamenei নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন। মধ্যস্থতাকারীদের মতে, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিশেষ বার্তাবাহক ব্যবস্থার কারণে সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক দিন পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে।

অন্যদিকে Donald Trump-কে মধ্যস্থতাকারীরা অত্যন্ত অনিশ্চিত ও অপ্রত্যাশিত নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাবি, তাঁর নিজের আলোচক দলও অনেক সময় জানে না তিনি শেষ পর্যন্ত কোন অবস্থান নেবেন।

কী নিয়ে আলোচনা চলছে?

সম্ভাব্য প্রাথমিক চুক্তির আওতায়—

ইরান হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করবে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজের ওপর আরোপিত অবরোধ শিথিল করবে।

পরবর্তী ধাপের আলোচনায় ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করতে পারে।

বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে।

ইরানের জব্দকৃত কিছু সম্পদও মুক্ত করার বিষয় আলোচনায় রয়েছে।

তবে কোন পক্ষ আগে ছাড় দেবে, সেটিই সবচেয়ে বড় বিরোধের বিষয়।

ট্রাম্প ও ইরানের মধ্যে অবিশ্বাস

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর প্রথম দফার আলোচনায় ট্রাম্পের প্রতিনিধি Steve Witkoff এবং JD Vance ইরানকে ১০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেন।

ইরানি কর্মকর্তারা এতে সম্মত হওয়ার পর ট্রাম্প নাকি অবস্থান বদলে ২০ বছরের স্থগিতাদেশ দাবি করেন। মধ্যস্থতাকারীদের মতে, এর ফলে সেই আলোচনা ভেঙে যায় এবং ইরানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাস আরও বাড়ে।

অর্থনৈতিক চাপ

ইরান বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং গভীর অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের চাপের মুখে রয়েছে। তাই বিশ্লেষকদের ধারণা, উভয় পক্ষই অন্তত একটি অস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী।

জব্দকৃত সম্পদ নিয়ে বিতর্ক

আলোচনার সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি হলো ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা।

পূর্ববর্তী খসড়াগুলোতে আঞ্চলিক ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ইরানি সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল বলে জানা গেছে। তবে ট্রাম্পের জন্য এটি রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ অতীতে তিনি ইরানকে অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্য পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসনগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।

সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত

কূটনৈতিক আলোচনা চললেও পারস্য উপসাগরে সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি।

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে, আর একই সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে সীমিত হামলা-পাল্টা হামলাও চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপকে আলোচনায় সুবিধা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অস্থায়ী ও সীমিত চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটি দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তা এখনও অত্যন্ত অনিশ্চিত। প্রধান বাধা রয়ে গেছে—কীভাবে এমন একটি সমঝোতা করা যায় যাতে উভয় পক্ষই নিজেদের জনগণের কাছে বিজয়ী হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর