ইরানে যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক ধস: ব্যাপক চাকরি ছাঁটাই, শিল্প খাতে অচলাবস্থা
যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও অবকাঠামোগত সংকটের চাপে ইরানের অর্থনীতি ভয়াবহ চাপের মুখে পড়েছে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন খাতে ব্যাপক হারে চাকরি ছাঁটাই চলছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম The New York Times–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে
ইরানে যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক ধস: ব্যাপক চাকরি ছাঁটাই, শিল্প খাতে অচলাবস্থা
যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও অবকাঠামোগত সংকটের চাপে ইরানের অর্থনীতি ভয়াবহ চাপের মুখে পড়েছে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন খাতে ব্যাপক হারে চাকরি ছাঁটাই চলছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম The New York Times–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে।
একের পর এক চাকরি হারাচ্ছেন কর্মীরা
তেহরানের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৪৯ বছর বয়সী ডিজাইনার বাবাক জানান, ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তার চাকরি চলে যায়। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কর্মক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বেড়েছে এবং বারবার ছাঁটাইয়ের শিকার হচ্ছেন তিনি।
সরকারি ও শিল্পখাতের বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, চলমান সংকটে প্রায় ১০ লাখের বেশি চাকরি হারিয়েছে, এবং আরও লক্ষাধিক মানুষ পরোক্ষভাবে বেকার হয়ে পড়েছে।
ইন্টারনেট শাটডাউন ও প্রযুক্তি খাতের পতন
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সরকার ইন্টারনেট সীমিত করে দেওয়ায় দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এর ফলে ই-কমার্স ও প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। প্রতিদিন কোটি কোটি ডলারের ক্ষতির হিসাব পাওয়া যাচ্ছে বলে অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন।
শিল্প খাতে উৎপাদন সংকট
যুদ্ধের সময় অবকাঠামো ও শিল্পকারখানায় হামলা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাতের কারণে কাঁচামালের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক কারখানা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান শুধু নামমাত্র উৎপাদন চালাচ্ছে।
কিছু ক্ষেত্রে ব্যাপক ছাঁটাই হয়েছে—একটি টেক্সটাইল কারখানায় শত শত শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
বেকারত্বে রেকর্ড বৃদ্ধি
চাকরির বাজারে চরম চাপ দেখা যাচ্ছে। একদিনেই তিন লাখের বেশি চাকরিপ্রার্থীর আবেদন জমা পড়ার ঘটনা বেকারত্বের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।
মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ
সরকার সম্প্রতি ন্যূনতম মজুরি বাড়ালেও তা অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে বলে অর্থনীতিবিদদের মত। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি খরচের কারণে আরও ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের সংকট
চাকরি হারিয়ে অনেক পরিবার এখন সঞ্চয় ভেঙে জীবনযাপন করছে। কেউ কেউ গাড়ি, গয়না বিক্রি করে দৈনন্দিন খরচ চালাচ্ছেন। পরিস্থিতি দিন দিন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইরানের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়েছে। শিল্প, প্রযুক্তি ও শ্রমবাজার—সব ক্ষেত্রেই একযোগে ধস নামায় দেশটি এক দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।