“আমাকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলা হয়েছে, কিন্তু সত্য বদলায় না”—কীটনাশক ইস্যুতে কংগ্রেসে তীব্র বক্তব্য Anna Paulina Luna-এর

“আমি কোনো বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীর অর্থে পরিচালিত নই। আমি আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের স্বার্থ রক্ষা করি।” তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে—তিনি “মানুষকে বেছে নিচ্ছেন, কীটনাশক কোম্পানিকে নয়।”

PostImage

“আমাকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলা হয়েছে, কিন্তু সত্য বদলায় না”—কীটনাশক ইস্যুতে কংগ্রেসে তীব্র বক্তব্য Anna Paulina Luna-এর


যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সরব হয়েছেন রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান Anna Paulina Luna। ফ্লোরিডার ১৩তম কংগ্রেশনাল জেলার এই প্রতিনিধি, যিনি একজন সাবেক United States Air Force সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন, সম্প্রতি কংগ্রেসের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে বিতর্কিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এক বক্তব্য দেন।

২০২৬ সালের শুরুতে SAVE America Act নিয়ে আলোচনার সময় হাউস ফ্লোরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, কীটনাশকের ব্যবহার শিশুদের ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। তার দাবি, এই বিষয়ে ১৭০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক গবেষণা একই ধরনের ফলাফল তুলে ধরেছে।

এই বক্তব্যের পরপরই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সমালোচকরা তাকে “ড্যাম লায়ার” বা ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আখ্যা দিলেও তিনি তার অবস্থান থেকে সরে আসেননি। জবাবে লুনা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “তথ্যই সত্য, এবং সেই সত্যকে অস্বীকার করা যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীর অর্থে পরিচালিত নই। আমি আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের স্বার্থ রক্ষা করি।” তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে—তিনি “মানুষকে বেছে নিচ্ছেন, কীটনাশক কোম্পানিকে নয়।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, লুনার এই বক্তব্য কেবল একটি ব্যক্তিগত মত নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রে জনস্বাস্থ্য বনাম কর্পোরেট স্বার্থের একটি বৃহত্তর বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে কৃষিখাত ও খাদ্য উৎপাদনে কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে উদ্বেগ রয়েছে, সেটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অন্যদিকে, কীটনাশক শিল্পের প্রতিনিধিরা এই দাবির সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, যথাযথ নিয়ম মেনে কীটনাশক ব্যবহার করলে এর ক্ষতিকর প্রভাব অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

এই পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও গবেষণা, কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ বিকল্প ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছেন। ফলে বিষয়টি এখন কেবল একটি রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।