ট্রাম্প ও মেটা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য দুটি পুলিৎজার জিতেছে রয়টার্স
২০২৬ সালের পুলিৎজার পুরস্কারে আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। ডোনাল্ড ট্রাম্প, মেটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সরকারি জবাবদিহিতা নিয়ে সাহসী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য রয়টার্স, নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং ওয়াশিংটন পোস্ট শীর্ষ সম্মাননা অর্জন করেছে। ট্রাম্পের কথিত রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক কার্যক্রম এবং শিশুদের নিয়ে মেটার বিতর্কিত এআই চ্যাটবট ব্যবহারের অনুসন্ধানের জন্য দুটি পুলিৎজার জিতেছে রয়টার্স।
ট্রাম্প ও মেটা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য দুটি পুলিৎজার জিতেছে রয়টার্স
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters সোমবার দুটি মর্যাদাপূর্ণ পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছে। একটি পুরস্কার পেয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য এবং অন্যটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Meta-এর এআই চ্যাটবট ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন নিয়ে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য।
ন্যাশনাল রিপোর্টিং বিভাগে পুরস্কার পাওয়া রয়টার্সের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, কীভাবে ট্রাম্প প্রশাসন সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, সমালোচক এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।
এই অনুসন্ধানে কাজ করেন রয়টার্স সাংবাদিক Ned Parker, Linda So, Peter Eisler এবং Mike Spector।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করেছে, বিরোধী মতের সরকারি কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করেছে এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুদান বন্ধ করেছে।
রয়টার্স আরও জানায়, ডানপন্থী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং রিপাবলিকান নেতারাও ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে সমর্থন ও প্রচার করেছেন।
অন্যদিকে বিট রিপোর্টিং বিভাগে পুরস্কার জিতেছেন রয়টার্সের প্রযুক্তি অনুসন্ধানী সাংবাদিক Jeff Horwitz এবং চীনবিষয়ক প্রতিবেদক Engen Tham।
তাদের প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়, Meta-এর অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় শিশু-কিশোরদের সঙ্গে “রোমান্টিক” বা “সংবেদনশীল” কথোপকথনের অনুমতি ছিল এআই চ্যাটবটের জন্য।
Facebook এবং Instagram-এ পরিচালিত পরীক্ষামূলক অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মগুলো প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন ও ভুয়া দ্রুত ধনী হওয়ার স্কিম থেকেও লাভবান হয়েছে।
একটি প্রতিবেদনে নিউ জার্সির এক মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাও উঠে আসে। ওই ব্যক্তি একটি মেটা চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথনের পর বিশ্বাস করেছিলেন যে তিনি এক তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। পরে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।
রয়টার্সের অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, কীভাবে চীনা কোম্পানিগুলো মেটার বিজ্ঞাপন ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং কীভাবে মেটা বিভিন্ন দেশে প্রতারণাবিরোধী নিয়ম দুর্বল করার কৌশল নিয়েছে।
এই প্রতিবেদনগুলো প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক মামলাও দায়ের হয়। ব্যাপক সমালোচনার মুখে মেটা তাদের এআই নীতিমালা পরিবর্তন করে এবং শিশুদের সঙ্গে রোমান্টিক আলাপ বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
এছাড়া The Washington Post জনসেবামূলক প্রতিবেদনের জন্য পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছে। তাদের প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসন এবং ধনকুবের Elon Musk-এর প্রভাব নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হয়।
অন্যদিকে The New York Times তিনটি পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছে, যার মধ্যে অন্যতম ছিল ট্রাম্প পরিবার ও তাদের ঘনিষ্ঠদের আর্থিক সুবিধা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।