যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতির পথে অগ্রগতি, অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলমান সংঘাত শেষ করার লক্ষ্যে একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারকের দিকে এগোচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে অতীতের মতো শেষ মুহূর্তে আলোচনা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা এখনও প্রবল, যার মধ্যে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump।

PostImage

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতির পথে অগ্রগতি, অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলমান সংঘাত শেষ করার লক্ষ্যে একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারকের দিকে এগোচ্ছে বলে জানা গেছে। আঞ্চলিক সূত্র অনুযায়ী, দুই দেশ একটি এক-পৃষ্ঠার নথি নিয়ে কাজ করছে, যা যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রাথমিক কাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে অতীতে একই ধরনের আলোচনা শেষ মুহূর্তে ভেঙে পড়ার অভিজ্ঞতা থাকায় এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। এ অবস্থায় নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump

সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য এই সমঝোতায় সামরিক উত্তেজনা কমানো, সংঘর্ষ হ্রাস এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন, কারণ আগের আলোচনা হঠাৎ করেই ভেঙে পড়েছিল, যা চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump স্পষ্ট করে বলেছেন, দ্রুত কোনো চুক্তি না হলে আবারও বোমা হামলা শুরু হতে পারে। তার এই বক্তব্য ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং আলোচনাকে দ্রুত ফলাফলের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা বলেও মনে করা হচ্ছে।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) নৌবাহিনী জানিয়েছে, নতুন কিছু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল সম্ভব। এই ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ওই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে তাদের সরাসরি সহায়তা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে, তবে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ এখনো বজায় রেখেছে। এই পদক্ষেপকে একদিকে উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও অন্যদিকে এটি কৌশলগত চাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu এই আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। ইসরায়েল আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিশ্চিত করতে শেষ মুহূর্তে ইরানকে কিছু ছাড় দিতে পারে, যা তাদের নিরাপত্তা স্বার্থে প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক অগ্রগতি থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত সংবেদনশীল। সামরিক হুমকি, কৌশলগত জলপথ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর উদ্বেগ—সবকিছু মিলিয়ে এই আলোচনা কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণ করবে আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ।