মার্কিন–ইরান নৌ অবরোধে অচলাবস্থা, হঠাৎ পদত্যাগ করলেন নৌবাহিনী সচিব
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে, কারণ দুই দেশই এখন নৌ অবরোধকে কেন্দ্র করে এক ধরনের অচলাবস্থায় আটকে গেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই হঠাৎ করে দায়িত্ব ছাড়লেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সচিব জন ফেলান (John Phelan), যা ওয়াশিংটনের সামরিক নেতৃত্বে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে
মার্কিন–ইরান নৌ অবরোধে অচলাবস্থা, হঠাৎ পদত্যাগ করলেন নৌবাহিনী সচিব
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে, কারণ দুই দেশই এখন নৌ অবরোধকে কেন্দ্র করে এক ধরনের অচলাবস্থায় আটকে গেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই হঠাৎ করে দায়িত্ব ছাড়লেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সচিব জন ফেলান (John Phelan), যা ওয়াশিংটনের সামরিক নেতৃত্বে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি “তাৎক্ষণিকভাবে” দায়িত্ব ছেড়েছেন, তবে এর পেছনে কোনো স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার পদত্যাগ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে মার্কিন নৌবাহিনী বর্তমানে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।
তার অনুপস্থিতিতে উপ-সচিব সাময়িকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যাতে চলমান নৌ অভিযান ও অবরোধ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা যায়।
অন্যদিকে, ইরান এই অবরোধের তীব্র বিরোধিতা করছে। দেশটি বলছে, অবরোধ তুলে না নিলে কোনো অর্থবহ যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। তারা যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ তুলেছে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড হরমুজ প্রণালীতে কয়েকটি জাহাজ আটক করে। এর মাধ্যমে তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তারা মার্কিন নৌ শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলেও প্রভাব ফেলবে।
এই টানাপোড়েনের প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে পড়তে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল সরবরাহ হয়, ফলে সেখানে অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম বেড়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি এখন “অবরোধ অচলাবস্থা”-তে পৌঁছেছে—যেখানে কোনো পক্ষই পিছু হটতে রাজি নয়। যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ চালিয়ে চাপ ধরে রাখতে চায়, আর ইরান পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।
এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতের উচ্চ পর্যায়ে একের পর এক পরিবর্তন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই ধরনের অস্থিরতা ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে, যা বড় ধরনের সংঘাতের দিকে পরিস্থিতিকে ঠেলে দিতে পারেন।
বর্তমান পরিস্থিতি এক ধরনের বিপজ্জনক ভারসাম্য তৈরি করেছে। সরাসরি যুদ্ধ এড়ানো হলেও, উভয় পক্ষ ধীরে ধীরে চাপ বাড়াচ্ছে। নেতৃত্বে অস্থিরতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সামরিক উত্তেজনা—সব মিলিয়ে এই সংকট দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: The guardian