আলোচনার বদলে বাড়ছে সংঘাত: মিত্র দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে, যেখানে দুই পক্ষের বিপরীতমুখী অবস্থান সমঝোতার সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
আলোচনার বদলে বাড়ছে সংঘাত: মিত্র দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত: সমঝোতার পথে বড় বাধা, দুই পক্ষের অবস্থান বিপরীতমুখী
ওয়াশিংটন / তেহরান | মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ দুই দেশই নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন দাবি উপস্থাপন করছে।
এক মাস আগে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের দূত Steve Witkoff এবং Jared Kushner-এর মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা হলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও Israel ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে।
বর্তমানে প্রেসিডেন্ট Donald Trump আবার আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবতা বলছে—সমঝোতার পথ এখনও অনেক দূরের।
যুক্তরাষ্ট্রের শর্তাবলি
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে যে প্রস্তাব দিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—
- পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ
- উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর
- প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা
- আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন বন্ধ
বিশ্লেষকদের মতে, এসব শর্ত ইরানের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন।
ইরানের পাল্টা দাবি
ইরান তাদের দাবিতে বলেছে—
- সকল সামরিক হামলা বন্ধ করতে হবে
- ভবিষ্যৎ হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা
- যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ
- Strait of Hormuz-এর উপর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ
- আঞ্চলিক সব ফ্রন্টে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi জানিয়েছেন, এটি আলোচনার প্রক্রিয়া নয়, বরং বার্তা আদান-প্রদান।
হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব
Strait of Hormuz এখন ইরানের বড় কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে প্রভাব বিস্তারের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলের উদ্বেগ
Israel আশঙ্কা করছে, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ইরানকে পুনর্গঠনের সুযোগ দিতে পারে, অথচ ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও প্রক্সি নেটওয়ার্কের মতো মূল বিষয়গুলো অমীমাংসিত থেকে যাবে।
সম্ভাব্য আলোচনা ও মধ্যস্থতা
যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান বা তুরস্কে সম্ভাব্য বৈঠকের চেষ্টা করছে, যেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
এদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত
- প্রায় ১,০০০ মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি
- নতুন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র Karoline Leavitt সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি না মানলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।